অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ। ভারতীয় মহিলাকে বিয়ে করে শ্বশুর শাশুড়িকে বাবা-মা সাজিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বসবাস করছে বাংলাদেশি।
শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: আনুমানিক ২০১২ সালে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা রাশিদুল গাজী। কাজের সূত্রে সেখান থেকে সোজা চলে যায় তামিলনাড়ুতে। সেখানে গিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের শ্রীধর কাটি এলাকার গফুর আলী গাজীর মেয়ে রুমেশার সঙ্গে পরিচয় হয়। তামিলনাড়ুতেই তাদের মধ্যে তৈরি হয় প্রণয়ের সম্পর্ক। তারপর রমেশা রাশিদুল গাজীকে নিয়ে চলে আসে, শ্রীধর কাটি এলাকায়। সেখানে আনার পর তাদের মধ্যে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর রাশিদুলের নাম পরিবর্তন করা হয়। তার নাম রাখা হয় আবদূল গাজী। শশুর গফুর আলী গাজীকে বাবা সাজিয়ে এই শ্রীধর কাটি এলাকার পশ্চিমপাড়ার ২০৮ নম্বর বুথে ভোটার লিস্টে ২২ নম্বর সিরিয়ালে কার্ড বানিয়ে ফেলে।

তৎকালীন সিপিআইএম নেতাদের হাত ধরে এই ভোটার কার্ড বানিয়ে ফেলে বলে দাবি করেন ওই বাংলাদেশি আবদূল গাজী। এসআইআর চালু হতেই এই বাংলাদেশির হদিস নিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই প্রসঙ্গে সিপিআইএমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে সময় এই আবদূল গাজী ভোটার হয় সেই সময় এই গোবিন্দ কাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন তৃণমূলের দেবেশ মণ্ডল। বর্তমানে এই দেবেশ মণ্ডল হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক। আব্দুল গাজীর দাবি, এই দেবেশ মণ্ডল তাকে ভোটার কার্ড বানিয়ে দিয়েছেন। তবে এই প্রসঙ্গে তৎকালীন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা বর্তমান হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশে নাম ছিল রাশিদুল গাজী। নাম পরিবর্তন হয়ে ভারতের ভোটার কার্ডে রয়েছে আবদূল গাজী। শশুর গফুর আলী গাজীকে বাবা সাজিয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সিপিএম হোক বা তৃণমূল, তারা দেশের কথা না ভেবে নিজেদের ভোট ব্যাংকের কথা ভেবে এইভাবে অবৈধ ভোটারদের ভোটার অধিকার করে দিয়েছে। এখন তারা পুরোটাই অস্বীকার করে বলছেন, ভোটার লিস্টে নাম তুলতে গেলে পুরো ভূমিকাটা থাকে নির্বাচন কমিশনের। একরকম তারা দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা জানে না স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান অথবা জনপ্রতিনিধি যারা থাকে তারা পঞ্চায়েত থেকে সার্টিফিকেট না দিলে নির্বাচন কমিশন নাম তুলতে পারে না অর্থাৎ পুরো দায় পঞ্চায়েতের স্তরের জনপ্রতিনিধিদের নিতে হবে। সবমিলিয়ে চাপানোতর চলছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, এসআইআর আবহে আর কত বাংলাদেশি এপাড় বাংলায় অবৈধভাবে বসবাস করছে, সেটাই এখন দেখার।