অন্যদিকে চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনাল প্রকল্প ও ঢাকার কাছে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি সংস্থাকে দিয়েছে ইউনুস সরকার ।

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক : ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরাতে বাধ্য নয়..সেটা মোটামুটি ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে..এবং দুই দেশের মধ্য়ে যে প্রত্যর্পন চুক্তি রয়েছে সেই চুক্তি অনুযানি ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরাতে যে বাধ্য নয়, সেটা বিশেষজ্ঞরাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন..তবে বাংলাদেশ কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে…না..বাংলাদেশও চাইবে শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে তার সাজা কার্যকর করতে..ভারত থেকে কী ভাবে হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, কী ভাবে বিচার সম্পন্ন করা যায়, ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তা বিবেচনা করে দেখছে।
হাসিনাকে ফেরাতে বাংলাদেশের সামনে কি কি পথ খোলা থাকছে—বাংলাদেশ সরকার দুইভাবে শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরত এনে সাজা কার্যকর করতে পারে, এটা বলছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলাম। ভারত-বাংলাদেশ বন্দি প্রর্তপন চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাদের ফেরত চাইবে ঢাকা..অন্তবর্তী সরকারের বিশ্বাস ভারত আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে আসামিদের ফেরত দেবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইন্টারপোলের মাধ্যমে। যেহেতু বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল থেকে উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের এই দুই উপায়ে দেশে ফেরত এনে সাজা কার্যকর করতে পারবে অন্তবর্তী সরকার।
ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিক ভাবে চিঠি দেবে বাংলাদেশ। এবং সেই চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অন্তবর্তী সরকারের কথায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। যে হেতু তাঁরা এখন সাজাপ্রাপ্ত, তাঁদের ফেরানোর ক্ষেত্রে ভারতের বাড়তি দায়িত্ব এখন রয়েছে বলে অন্তবর্তী সরকার মনে করে। বাংলাদেশের মানুষের বিচারের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য ভারত যাতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালন করে, তা চিঠিতেও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বক্তব্য,বাংলাদেশ সব আন্তর্জাতিক নর্মস, আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করে ক্রাইমস এগেইনস্ট হিউম্যানিটির মতো কমপ্লেক্স অপরাধের বিচার করতে সক্ষম এবং বাংলাদেশ সাফল্যের সঙ্গে সেটা করেছে। ফলে শেখ হাসিনাদের শীঘ্র দেশে ফিরিয়ে তাদের সাজা কার্যকর করা হবে..
১৭ নভেম্বর গোটা বিশ্বের নজর ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের দিকে, কি সাজা হতে পারে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর. আর বাংলাদেশের নজর থাকবে সেটা তো খুব স্বাভাবিক.ওই দিন একাধিক হিংসার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়েছিল পদ্মাপাড়. আবার ১৭ নভেম্বরই বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে রাশিয়ান যুদ্ধ জাহাজ..হঠাত করে রাশিয়ার যুদ্ধ জাহাজ কেন চট্টগ্রাম বন্দরে ? সেটা নিয়ে একটা অস্থিরতা তৈরি হয় বাংলাদেশের অন্দরে..কিছুদিন আগে পাক যুদ্ধ জাহাজ পিএনএস সাইফ এসেছিল চট্টগ্রাম বন্দরে.. কিন্তু কেন রাশিয়ার যুদ্ধ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করতে গেল..শেখ হাসিনার সাজাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে এমনিতেই এখন অশান্ত..তাহলে নতুন কিছুর ইঙ্গিত..রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সখ্যতা খুব ভালো সেটা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ জানে..সেক্ষেত্রে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানোর নতুন কোন চাল ভারতের..এটাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না..

পাঁচ দিনের সফরে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে রুশ নৌ জাহাজ গ্রেমেয়াশচি। ১৭ ই নভেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ বিএনএস ওমর ফারুক রুশ যুদ্ধ জাহাজকে এসকর্ট করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজ ঘাঁটি, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুল, চট্টগ্রামের বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করবেন রুশ আধিকারিকরা..কিন্তু আদেও কি এটি শুভেচ্ছা সফর, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্যে রয়েছে?
অন্যদিকে চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনাল প্রকল্প ও ঢাকার কাছে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি সংস্থাকে দিয়েছে ইউনুস সরকার । চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনাল ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এ.পি.এম টার্মিনাল এবং পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেনার টার্মিনালে কাজ করবে সুইজারল্যান্ডের সংস্থা মেডলগ। এই চুক্তিও সাক্ষরিত হয়েছে ১৭ নভেম্বর..শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণার দিনে তলে তলে বাংলাদেশকে বেঁচে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন মহম্মদ ইউনুস..এই চুক্তি তো পরেও করা যেত হঠাত কেন চুক্তির জন্য ১৭ নভেম্বরকে বেছে নিলেন ইউনুস…সেই প্রশ্নও উঠছে বাংলাদেশের অন্দরে..