কালীপুজোয় ঠিক রাত ১২ টায় শুরু হবে বড়মার পুজো

কথিত আছে, নৈহাটির বড় মা নাকি খালি হাতে কাউকে ফেরান না। মনের আশা তাঁর কাছে জানালেই পূরণ হয়। দাবি করেন অনেকেই। সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নৈহাটির বড় মার নাম। লোকমুখে ফেরা এই কথার সত্যতা কতটা?

সুব্রত পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা: নৈহাটির বড় মা ১০০ বছরের ইতিহাস। ১৯২৩ সালে ভবেশ চক্রবর্তী নামে এক যুবক নবদ্বীপে গিয়ে ভাঙা রাসে বড় বড় মূর্তি দেখে চমকে যান। সেখান থেকে ঘুরে এসে নৈহাটিতে প্রতিমা নির্মাণ করেন। মূলত স্বপ্নাদেশ পেয়েই মূর্তি নির্মাণ করেন। ২২ ফুটের প্রতিমা। যা দেখে স্থানীয়রা বলে ওঠেন বড় মা। ভক্তদের বিশ্বাস বড় মা অলৌকিক ক্ষমতাধারী। তাই বাংলার জাগ্রত কালী হিসাবে নৈহাটির বড় মা স্থান পেয়েছেন সকলের মনে। বড় মা ডাকের মধ্যে রয়েছে আত্মিক বিষয়। যেন আপন মা। তাই মায়ের কাছে চোখের জলে মনের কথা শোনান ভক্তরা। আর ভক্তদের দাবি বড় মা তা পূরণ করেন, যেমনটা এক মা তার সন্তানের জন্য করেন। আর এই অমোঘ টানে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন বড় মার কাছে।

নৈহাটির অরবিন্দ রোডের ধর্মশালায় বড়কালীকে বড় মা বলে এক ডাকে চেনেন সকলে। চারিদিকে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে বড় মার নাম। কালী পুজোর দিন দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন বড়মার কাছে। মাথা উঁচু করে দেখতে হয় প্রতিমাকে। ২১ ফুট উচ্চতা প্রায় ১৪ হাতের উঁচু কালী মূর্তি। ১০০ বছরের এই ঐতিহ্যবাহী পুজোতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন পুজো দিতে। গঙ্গায় স্নান করে দণ্ডীও কাটেন। ১০০ কেজি সোনার গয়না থেকে ফুলের সাজে সেজে ওঠেন মা। বড়মার বিসর্জনেও আলাদা চমক থাকে। বড়মার বিসর্জন না হওয়া পর্যন্ত নৈহাটির কোনও কালী প্রতিমা বিসর্জন হয় না। এই পুজো সর্বজনীন হলেও কারও কাছে কখনও চাঁদা বা দক্ষিণা নেওয়া হয়না। দেবীর গয়না থেকে ভোগ , পুজোর সামগ্রী সমস্ত খরচা করে থাকেন সাধারণ ভক্তরা। এতদিন কালীপুজোর দিনেই বড় মার দর্শন পাওয়া যেত তবে এখন মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বড়মার দর্শন পাওয়া যায় নিয়মিত। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে নামি দামি ব্যক্তিরাও আসেন বড়মার মন্দিরে। কালী পুজোর আর কয়েকটা দিন বাকি। এবার লক্ষ লক্ষ ভক্তদের সমাগম হতে পারে বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। বড়মার ইতিহাস তো জানালাম এবার জানাবো এবারে পুজোর নির্ঘণ্ট। জানা গেছে, এবার কালীপুজোর দিন ঠিক রাত ১২ টায় বড়মার পুজো শুরু হবে। রাত আড়াইটের সময় হবে অঞ্জলি। পুজো গ্রহণের জন্য ১৭ তারিখ থেকে তিনটি কাউন্টার খোলা থাকবে। ২০ তারিখ কালীপুজোর দিন চারটে কাউন্টার খোলা থাকবে। অনলাইনেও দিতে পারবেন পুজো। জয় বড় মা অ্যাপে নেওয়া হবে পুজো। ১৩ অক্টোবর থেকে খুলে গেছে কাউন্টার সেখানেও নেওয়া হচ্ছে পুজো। ২০ অক্টোবর ভোর থেকে দণ্ডীকাটা শুরু হবে চলবে সন্ধে ছটা পর্যন্ত।

পুজোর কটা দিন নিরাপত্তা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে। সেই নিয়েও প্রচুর বৈঠক হয়েছে। নৈহাটি রেল স্টেশনে ওয়ানওয়ে সার্কুলেশনের মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ হবে একমাত্র সাবওয়ে দিয়েই বেরোতে হবে যাত্রীদের। ১ নং প্লাটফর্ম থেকে নৈহাটি লোকাল ছাড়বে না পুজোর কদিন। অতিরিক্ত লোকাল ট্রেন চালানোর আবেদন করা হয়েছে।

অতএব নৈহাটির বড়মার পুজো ঘিরে তত্পরতা তুঙ্গে । ভক্তরাও তৈরি মায়ের কাছে পুজো দেওয়ার জন্য। তবে যারা বাড়িতে বসে পুজো দিতে চাইছেন তারাও পুজো দিতে পারবেন। সেই ব্যবস্থাও করে রেখেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।