রাজনীতির রণক্ষেত্র : ভবানীপুর  

পশ্চিমবঙ্গে হাইভল্টেজ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারী।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বড় স্পটলাইট ভবানীপুর আসন। কারণ এই আসনে লড়াই করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।  যা নিয়ে ভবানীপুর আসনে জোরদার টক্কর হবে তা বলাই বাহুল্য।

২০২১ সাল থেকে শুরু হয়েছে দুজনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে সংঘাতের শুরুটা হয়েছিল ২০২১ সালে। সেই বছর বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবার মুখ্যমন্ত্রী পরাজিত হন। পরে ভবানীপুরে উপনির্বাচন করিয়ে জয়ী হয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর ২০২৬-এর নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র যে তাপ বাড়াচ্ছে তা বলাই বাহুল্য।  

সামাজিক সমীকরণ এবং ভোট প্যাটার্নে বদল

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বাঙালি গুজরাটি, শিখ, মুসলিম সমস্ত সম্প্রদায়ের এবং সমস্ত ভাষাভাষীর ভোটার রয়েছেন। জানা যাচ্ছে ৭৩, ৭৭ ও ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল সমর্থকদের উপস্থিতি বেশি। অন্য়দিকে বিজেপি সমর্থকদের উপস্থিতি বেশি রয়েছে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে। যেখানে অবাঙালি  ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মানুষজন রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী তথ্য বলছে ২০২১-এর তুলনায় তৃণমূলের প্রভাব কমেছে। ২০২১ সালে যেখানে প্রায় ৫৯ হাজার ভোটের ফারাক ছিল, সেখানে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তা কমে প্রায় ৮ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

তোপ পাল্টা তোপে হাওয়া গরম

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লাগাতার নন্দীগ্রামের পরাজয়ের কথা মনে করাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে তৃণমূল শুভেন্দুকে দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতির বাইরের মানুষ বলে আখ্যা দিয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, এবারের ভোট শুধুমাত্র ব্যক্তিত্বের লড়াই নয় বরং উন্নয়নমূলক বিষয়ের উপর নির্ভার করছে।  একাধিক ভোটার মনে করছেন, রাজ্যে কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এবিষয়ে কাজ হোক,  এমনই চান তাঁরা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ভবানীপুরে পোস্টার লাগানো থেকে শুরু করে জনসম্পর্ক অভিযান শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পার্টির নেতাদের দাবি এটা মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়। এখানে ওনার জয় হবেই। অন্যদিকে বিজেপিও এই আসনটির জন্য সর্বাত্মক লড়াই চালাচ্ছে। বিজেপির দাবি, এবার জনগণ পরিবর্তন চায় এবং শহরাঞ্চলে বিজেপির ভিত শক্ত হচ্ছে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরে ভোটের ফল সমগ্র বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে জয়লাভ করলে গতবারে নন্দীগ্রামের পরাজয়ের বদনাম ঘোঁচানো যাবে। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী জিতলে বিজেপি এটা প্রমাণ করার সুযোগ পাবে যে তারা শহরাঞ্চলেও শক্তিশালী  ভিত তৈরি করতে পেরেছে। বিজেপি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তা প্রমাণ করার সুযোগ পাবে তারা। সুতরাং ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াই একটি বড় রাজনৈতিক যুদ্ধ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বাংলায় ক্ষমতার গতিপথকে নির্ধারণ করবে।