৪মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ। তার আগে বঙ্গ বিজেপিকে হঠাৎ তথাগত রায়ের এমন সতর্কবার্তা কেন ?

মাম্পি রায়,সাংবাদিক : সালটা ছিল ২০২১। এক্সিট পোলের পূর্বাভাসে গেরুয়া শিবিরের উত্থানের ছবি আঁকা হলেও, শেষ পর্যন্ত ফল ঘোষণায় সেই হিসেব ভেস্তে যায়। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২১৩ আসনে জয়লাভ করেছিল তারা। অন্যদিকে বিজেপির রথ থেমে যায় ৭৭ আসনে। বুথ ফেরত সমীক্ষা এবং বাস্তব ফলাফলের এই ফারাক আজও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয়। কারণ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ঘিরেও অনেকটা একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক্সিট পোলের ফলাফলে কোথাও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, তো কোথাও আবার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। এই আবহেই দলীয় কর্মীদেরকে কার্যত সতর্ক করে দিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তথাগত রায় লিখেছেন, “বঙ্গ বিজেপি! এক্সিট পোল নিয়ে আনন্দিত হোক, কিন্তু উচ্ছ্বসিত হবেন না।” তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এখনও ভোটগণনা বাকি, এবং সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। তৃণমূলের নাম না করে তিনি বলেন, গণনার সময় ‘চোরের দল’ নানা চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণে কাউন্টিং এজেন্টদের কড়া নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি—রিটার্নিং অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী ঘোষণা না করা পর্যন্ত যেন কেউ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না যায়।
তথাগত রায় তাঁর পোস্টে ২০২১ সালের অভিজ্ঞতার কথাও মনে করিয়ে দেন। পরোক্ষে রাজ্য বিজেপির তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, “২০২১-এর কথা ভুলবেন না।” ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় তিনি সেই সময়ের নেতৃত্বের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এমন সমালোচনা অবশ্য তথাগত রায়ের ক্ষেত্রে নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব ও দলীয় কৌশল নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। এক সময় দলের অভ্যন্তরে ‘তারকাখচিত’ ভিড়কে ‘কামিনীকাঞ্চন’ বলে বিদ্রূপ করেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রবণতা দলকে শক্তিশালী করার বদলে বিভ্রান্ত করে।
এই পরিস্থিতিতে, ২০২৬-এর নির্বাচনের ফল নিয়ে যতই জল্পনা চলুক না কেন, তথাগত রায়ের বার্তা স্পষ্ট—চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে কোনও রকম উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া ঠিক নয়। রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ধৈর্য ও সতর্কতাই এখন সবচেয়ে বড় কৌশল।