“উত্তরবঙ্গ থেকে ৪৪ আসন পাবে বিজেপি”, গোপন রিপোর্টে উজ্জীবিত বঙ্গ বিজেপি

বাংলা মডেলকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে শুভেন্দু ,শমীক , সুকান্তরা।

সুচারু মিত্রনিজস্ব সংবাদদাতা: ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই উজ্জীবিত গেরুয়া শিবির। আর এবার বিজেপির সাংগঠনিক রিপোর্ট হাতে এসে জমা পড়ল রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। সেই রিপোর্ট দেখে অন্তত সন্তুষ্ট রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে ইতিমধ্যেই এসে জমা পড়ল গোপন সাংগঠনিক রিপোর্ট। আর যে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে এবার উত্তরবঙ্গ থেকে ৫৪ টি আসনের মধ্যে ৪৪টি আসন পেতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। উত্তরবঙ্গের নেতৃত্ব ও উত্তরবঙ্গের জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের কার্যকর্তারা তাদের এই গোপন রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, উত্তরবঙ্গে বিজেপির হাওয়া এবার ভীষণই ভালো। সাম্প্রতিকতম সময়ে লোকসভা নির্বাচনে নিশীথ প্রামাণিক পরাজিত হলেও উত্তরবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পুনরুত্থানের জায়গা হবে।  সেই সঙ্গে বাড়তি অক্সিজেন দেবে। ৪৪টা আসন ধরে ধরে বিবরণও লেখা হয়েছে। সেই বিবরণের মধ্যে কোন কেন্দ্রে এবার বিজেপি নিশ্চিতভাবে জয়লাভ করছে, গোপন সাংগঠনিক রিপোর্টে সেই উল্লেখই করেছেন উত্তরবঙ্গের নেতারা। তবে শুধু গোপন রিপোর্ট পেয়ে হাত গুটিয়ে বসে নেই বিজেপি।  এবার বাংলা মডেলকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে নামতে চান শুভেন্দু অধিকারী,শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদাররা।

দিল্লির নেতাদের ওপর ভরসা করে নয়, বাংলা নিজের মডেল তৈরি করেই প্রচার করবে, গোপন মিটিংয়ে এমন সিদ্ধান্তও হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারাই তৈরি করবেন, কোন জেলায় কী ভাবে প্রচার চলবে। কোন কোন ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচারে নামবে রাজ্য বিজেপি। দিল্লির ওপর ভরসা করে নির্বাচনী বৈতরণী পেরতে চায় না রাজ্য বিজেপি।

উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় পরিস্থিতি থেকে শুরু করে খগেন মুর্মুর ওপর আক্রমণ সব ইস্যুতেই এবার উত্তরবঙ্গের প্রচার চালাবে বিজেপি। উত্তরবঙ্গকে বাড়তি নজর দিয়ে কালীপুজোর পরেই উত্তরবঙ্গ সফরে যাবেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। একেবারে রিপোর্ট মাফিক নিয়ম করে উত্তরবঙ্গে চলবে ঢালাও প্রচার। তবে শুধু উত্তরবঙ্গ ধরে বসে থাকলে চলবে না,‌ দক্ষিণবঙ্গেও নজর দিতে হবে এমনই বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বিহার ভোট মিটলেই নভেম্বরের ১৫ তারিখের পর থেকে বঙ্গ সফরে আসা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার দিকেও এবার বিশেষ নজর রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির। কারণ এই দুই জেলা মিলিয়ে মোট ২৬৬টি বিধানসভা কেন্দ্র। এই দুই জেলাতেই বেশি করে সাংগঠনিক বৈঠক ও জনসংযোগের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব।