রথযাত্রা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

রথে বরাদ্দ ৫ লক্ষ! ঐতিহ্যের পাশে সরকার।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়। বাংলার বহু বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক মহোৎসব। এবার এই উৎসব নিয়ে বড় ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলিকে সরকারি সহায়তার আওতায় এনে প্রতিটি নির্বাচিত রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে খুশির হাওয়া বলাই যায়। আগামী বৃহস্পতিবার রথযাত্রা উপলক্ষে রাজ্যের ৬০ টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বহু দশক ধরে যে রথযাত্রাগুলি রাজ্যের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে তাদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। তাঁর কথায়, এটি শুধুমাত্র আর্থিক সাহায্য নয়। বরং সরকারের পক্ষ থেকে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতীক। তিনি আরও বলেন, প্রথম বছর তালিকা তৈরিতে কোথাও কোনও ত্রুটি থাকলে তা যেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়। ভবিষ্যতে আরও নির্ভুল তালিকা তৈরি করা হবে এবং এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, যে উদ্যোগের সূচনা হল আগামী দিনে সেটিই একটি স্থায়ী ঐতিহ্যে পরিণত হবে।

অনুদানপ্রাপ্ত কমিটিগুলিকে তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন এই অর্থ যেন পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী কাঠের রথগুলির সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হয়। যাতে বাংলার বহু বছরের ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছেও অক্ষুন্ন থাকে। রথযাত্রা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্তরী তৃণমূল সরকারের সমালোচনাও করেন। তাঁর দাবি, এতদিন সরকার কেবল কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করেই দায়িত্ব শেষ করত। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়ন ও ঐতিহ্য এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে রথযাত্রার মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবে সরকারি অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুধু রথযাত্রাই নয়। আসন্ন শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীদের জন্যও একাধিক বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র তৈরি করা হবে। পাশাপাশি তারেকশ্বর ধামের উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পে কাজ চলছে। জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন জয়ন্তী এলাকার একটি মন্দির এবং তারকেশ্বর এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিষেবা চালু করা হয়। সেখানে থাকবে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস, বিশ্রামের ব্যবস্থা-সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিষেবা।

ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির উন্নয়ন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বাজেটে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প রাখা হয়েছে। মঠ, মন্দির-সহ বহু প্রাচীন ধর্মীয় স্থানের সংরক্ষণ ও হেরিটেজ উন্নয়নের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণার পর নদিয়া জেলাতেও শুরু হয়েছে অনুদান প্রদান প্রক্রিয়া। নদিয়া জেলা শাসকের দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার চারটি ঐতিহ্যবাহী রথাযাত্রা কমিটির হাতে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। নদিয়ার চারটি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটি এই সরকারি সহায়তা পেয়ে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেছে।

বাংলার ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগ আগামী দিনে কতটা সফল হয় এখন সেইদিকেই নজর সকলের। রথযাত্রা ও শ্রাবণ মাসের এই বিশেষ উদ্যোগ ধর্মীয় পর্যটন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ তিন ক্ষেত্রেই নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।