বয়স একটা সংখ্যা মাত্র। সেটাই যেন প্রমাণ করে চলেছেন ধূপগুড়ির বাসন্তী পাল। তাঁর হাতেই একটু একটু করে রূপ পাচ্ছেন দেবী দূর্গা।

সুপ্রিয় বসাক, জলপাইগুড়ি- যে বয়সে তাঁর নাতি নাতনীদের নিয়ে গল্প দিদার আসর বসানোর কথা, যে বয়সে একটু আয়েশ করে দুপুর বেলা ভাত ঘুম দেওয়ার কথা, সেই বয়সেও তিনি ব্যস্ত মা দূর্গা কে সাজিয়ে তোলার কাজে। ধূপগুড়ির সাকোয়াঝোড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠাকুরপাঠ এলাকার বাসন্তী পাল। বয়স তাঁর ৮২। কিন্তু এই বয়সেও বাসন্তী দেবী নিজ হাতে তৈরি করে চলেছেন একের পর এক প্রতিমা। স্বামীকে হারিয়েছেন তা বেশ কয়েক বছর হলো। স্বামীকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন কিভাবে প্রতিমা তৈরি করতে হয়। তাঁর কাছ থেকেই প্রতিমা তৈরির পাঠ নিয়েছিলেন। এখন সেই পাঠ কে কাজে লাগিয়ে নিজেই প্রতিমা তৈরিতে হাত লাগিয়েছেন।

সপ্তাহ ঘুরলেই বাঙালীর সবচেয়ে বড় উৎসব। তাই এখন নাওয়া খাওয়ার সময় নেই এই বিরাশি বছরের বৃদ্ধার। কারণ উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের বানারহাট চা বাগান সহ বিভিন্ন বাগানে যে দূর্গা পুজো হয় তার বেশিরভাগই এই বাসন্তী দেবীর হাতে তৈরি। তাঁর কারখানায় অন্যান্য সহযোগীদের নিয়েই এই কাজ করে চলেছেন বিরাশির বৃদ্ধা। ঠাকুর তৈরির অন্যান্য কাজ সহযোগীরা করলেও প্রতিমার মুখ, হাত সহ চালার কল্কার কাজ বাসন্তী দেবী নিজ হাতে করেন। বাসন্তী দেবীর কথায় মায়ের মুখ নিজে না করলে তিনি ঠিক সন্তুষ্ট হন না।

এবছরও প্রায় ৩০ টি প্রতিমার বরাত মিলেছে। মহালয়া পার করলেই সামনের সপ্তাহে ডেলিভারি দিতে হবে। ফলে বাসন্তী দেবীর কারখানায় এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা। সেই ব্যস্ততার ফাঁকেই নিজের অভিমানের কথাও জানালেন তিনি। বাসন্তী দেবীর বক্তব্য, রাজ্য সরকার তো ক্লাব গুলোকে অনুদান দিচ্ছে। এবছর সেই অনুদান বেড়ে হয়েছে এক লক্ষ দশ হাজার। কিন্তু প্রতিমার দাম একটু বাড়াতে গেলেই পুজো কমিটিগুলোর বরাত হারানোর আশঙ্কা। এক, যারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কারখানা থেকে প্রতিমা নিয়ে যান, তারা বেশি দাম দিতে চান না, আর দুই; যারা নতুন করে বরাত দিতে আসছেন তারাও প্রতিমার জন্য বরাদ্দ বাড়াতে রাজি নন। ফলে পুজো কমিটিগুলোর জন্য অনুদান বৃদ্ধি পেলেও ঠাকুরের দামে খুব একটা তারতম্য ঘটে না। বাসন্তী দেবী দুঃখ করে বলছিলেন, শুধুমাত্র পেট চালানোর তাগিদে এই বয়সেও প্রতিমা গড়ার কাজ করছেন তিনি। এছাড়া এই বয়সে আর তো কিছু তিনি করতে পারবেন না। তাছাড়া এত বছর ধরে মায়ের রূপদান করছেন, ফলে সেটারও একটা আলাদা টান রয়েছে। তাই সামান্য লাভ রেখে এই কাজ করে চলেছেন তিনি। বাসন্তী দেবীর অনুরোধ পুজো কমিটিগুলো যদি প্রতিমার জন্য বরাদ্দ একটু বাড়ায় তাহলে তাঁর পুজোটাও একটু ভালো কাটে।