তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের বিজেপিতে যোগে ‘কোনও প্রভাব পড়বে না’, দাবি দোলা সেনের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : রাজ্যসভার তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুষ্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুখেন্দুশেখর রায়ের বিজেপিতে যোগদানকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই দলবদলে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও ক্ষতি হবে না বলেই দাবি করলেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তি নন, তৃণমূলের মূল শক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন।
কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দোলা বলেন, ‘‘এতে আমাদের কোনও পার্থক্য হবে না। এ বিষয়ে আমরা আগেই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। শেষ কথা বলবেন মানুষই। আমরা প্রত্যেকেই গৌণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মনোনীত করেন, তাঁর আহ্বানেই মানুষ ভোট দেন। সেই কারণেই আমরা সাংসদ বা বিধায়ক হই। ব্যক্তি চলে গেলে দলের কিছু আসে যায় না।’’
দলত্যাগী নেতাদের উদ্দেশে কটাক্ষও করেন তিনি। দোলার কথায়, ‘‘এটি গণতান্ত্রিক দেশ। যাঁদের বিশ্বাসঘাতকতা করতে ইচ্ছা, তাঁরা করতেই পারেন। কেন করছেন, তা তাঁরা জানেন। ভয়, লোভ বা অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে। সে বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। তবে শেষ পর্যন্ত এর জবাব সাধারণ মানুষই দেবেন।’’
বুধবার বিজেপির রাজ্য দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন সুষ্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুখেন্দুশেখর রায়। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসন্ন রাজ্যসভা উপনির্বাচনের জন্য তিন জনকেই প্রার্থী ঘোষণা করে বিজেপি।

আগামী ২৪ জুলাই রাজ্যের তিনটি শূন্য আসনে উপনির্বাচন হবে। ভোটগ্রহণ ও গণনা একই দিনে সম্পন্ন হবে। গত মাসে ওই তিন নেতা রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় আসনগুলি শূন্য হয়েছিল।
তিন নেতার বিজেপিতে যোগদানকে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব ও নীতির উপর আস্থা রেখেই তাঁরা গেরুয়া শিবিরে এসেছেন। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সদস্যদের অভিজ্ঞতা দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়াবে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ এবং দলত্যাগের ঘটনা সামনে আসছে। বিধানসভা ও সংসদ— দুই ক্ষেত্রেই একাধিক নেতার বিদ্রোহে রাজনৈতিক চাপের মুখে শাসকদল। সেই আবহেই তিন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদের দলবদল এবং উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হওয়া রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।