ভোট পরবর্তী হিংসায় বিধ্বস্ত ভাঙড়

আইএসএফ (ISF) কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠছে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : পালাবদলের পর গেরুয়া ঝড়ে ছেয়ে গিয়েছে গোটা রাজ্য। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছে জয় উদযাপনের ছবি। ভোট পরবর্তী হিংসায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ভাঙড়ে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ ও শারীরিক নিগ্রহে রূপ নেয়, তখন তা গণতন্ত্রের জন্য হয়ে ওঠে অশনি সংকেত।

হামলার কেন্দ্রবিন্দু – ভাঙড়ের নিমকুড়িয়া গ্রাম এবং সংলগ্ন এলাকা।
​অভিযোগের তির: আইএসএফ (ISF) কর্মী-সমর্থকদের দিকে। তৃণমূলের পতাকা না খোলায় ৫০-৬০ জন মিলে একটি বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ।

​আক্রান্ত বৃদ্ধ হাকিম আলী মোল্লা ও তাঁর পরিবার। এর মধ্যে নারী ও যুবকদের ওপর শারীরিক নিগ্রহের পাশাপাশি কামড়ে দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে।

​ অশান্তি রুখতে কাঁঠালিয়া বাজার এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করেছে। বিজয়গঞ্জ বাজার থানা বর্তমানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

​ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং বিজেপি নেতৃত্ব শান্তি বজায় রাখার বার্তা দিলেও, অভিযুক্ত আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

​ভাঙড় দীর্ঘকাল ধরেই রাজনৈতিকভাবে অতি-স্পর্শকাতর এলাকা। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এই ধরনের উত্তেজনা নতুন নয়, তবে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ এবং বাড়িঘর ভাঙচুর কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

​পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানই পারে এই মুহূর্তে বড় কোনো রক্তপাত থামাতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বর্তমানে পুলিশি টহল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।

​শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের ওপর নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ থাকা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আশা করা যায়, প্রশাসন দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।ভাঙড়ে ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ ও শারীরিক নিগ্রহে রূপ নেয়, তখন তা গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনি সংকেত, তা বলাই বাহুল্য।