“আজ রাতে ইরানে বৃহত্তম বোমাবর্ষণ”-ঘোষণা আমেরিকার ! শনিবার রাতেই ধ্বংস হবে ইরান ? ভয়ঙ্কর হুমকি আমেরিকার।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : তাহলে কি এই মুহূর্তে ধ্বংস হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে ইরান? কারণ যে হুমকি আমেরিকা দিয়েছে তা শিউরে ওঠার মতই। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, শনিবার রাতেই ইরানের উপর সবচেয়ে বড় হামলা করা হবে অর্থাৎ ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়াতে চলেছে ওয়াশিংটন। বেসেন্ট জানান, শনিবার রাতে হবে আমেরিকার সর্বকালের সবচেয়ে বড় বোমা হামলা অভিযান। মার্কিন এই হামলায় ইরানের মিসাইল লঞ্চিং প্যাডগুলি ও মিসাইল তৈরির কারখানাগুলোর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা হবে। না এখানেই শেষ নয়, বেসেন্টের আরও দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। ইরান দুটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে। আমেরিকান সেনার অভিযান অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ইরান সম্পর্কে বেসান্টের বক্তব্য আমেরিকা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে ইরানকে, ইরানে আমেরিকান সেনারা দারুণ সাফল্য পেয়েছে। তাই আমেরিকার হুমকি যে যথেষ্ট ভয়ংকর হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে আমেরিকা আর ইজ়রায়েলের কোনও জাহাজ যেতে দেবে না বলেও হুমকি দিয়েছে ইরান। এই নিয়ে উদ্বিগ্ন বেসেন্টের দাবি, ‘আমেরিকার ‘শক্তিশালী’ হামলার মুখোমুখি না হতে ইরান এখন অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছে।’ পাল্টা উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশে মিসাইল এবং ড্রোন হামলা শুরু করেছে ইরান। যদিও সেই হামলায় বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। এতদিন পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সব দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল ইরান। কিন্তু যুদ্ধের অষ্টম দিনে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে এলোপাথাড়ি আক্রমণ শুরু হয়েছে। ইরাকের পাশাপাশি প্রতিবেশী কুয়েত, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী, বাহরিন, ওমান, জর্ডনে চলছে লাগাতার হামলা। বন্ধু রাষ্ট্রগুলিও এবার মুখ ফেরাচ্ছে ইরানের থেকে। ইতিমধ্যেই পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। এর মধ্যেই আমেরিকার সামরিক হামলার হুঁশিয়ারিতে উত্তেজনা আরও বাড়ল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।আমেরিকার পাশাপাশি ইজরায়েলের একাধিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিতারাও বলেছেন যে ইরানের উপর আক্রমণ আরও বাড়বে। আবার এই সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন যে “বড় ঢেউ এখনও আসেনি। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার বলেছিলেন যে আরও ঘন ঘন বোমা হামলার মাধ্যমে” তেহরানের উপর “নাটকীয়ভাবে তীব্র” আক্রমণ চালানো হবে। ইতিমধ্যেই ইরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। শনিবার ভোরে পর পর জোরালো বিস্ফোরণ হয় মেহরাবাদ বিমানবন্দরে। বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দর থেকে আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে আগুন এবং কালো ধোঁয়া, বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হয়েছে। ছাড় দেওয়া হয়নি বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানগুলিকেও। বেশ কয়েকটি যাত্রিবাহী বিমান ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই বিমানবন্দরটি তেহরানের মূল বাণিজ্যিক বিমানবন্দর। শুধু তেহরানই নয়, কেরমানশাহ শহরেও হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এখানেই ইরানের বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাঁটি রয়েছে। সেই ঘাঁটি লক্ষ্য করেই এই হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ইজরায়েলের দাবি, তেহরানের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বাঙ্কার। অত্যন্ত সুরক্ষিত সেই বাঙ্কারগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বার সেগুলিকে নিশানা করা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে এই গোপন বাঙ্কারগুলির হাল-হকিকত জানতে ইজরায়েলি গোয়েন্দারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে এক এক করে সেই বাঙ্কারগুলি ধ্বংসে কাজ শুরু করল ইজরায়েল। অন্যদিকে ট্রাম্প তিনিও কিন্তু ইরানকে হুমকি দিয়ে রেখেছেন, কোনও কূটনৈতিক পথ বের হওয়ার আগে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে। যদি ইরানে একজন ভালো এবং গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচিত হন, তাহলে আমেরিকা এবং অন্যান্য মিত্র দেশগুলি একসঙ্গে কাজ করে দেশটিকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।’ ট্রাম্প বলেন, “নতুন নেতৃত্ব আসার পর ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে এবং দেশটিকে আবার শক্তিশালী করতে কাজ করা হবে।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গঠনে তিনি অগ্রজ ভূমিকা পালন করতে চান। নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ করতে হবে ইরানকে। তার পরেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ইরানের সঙ্গে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সংঘাতে ইতি পড়বে না! সমঝোতার পথ কি খুলবে না! কারণ, ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাতে ইতি টানার কথা বলেছিল। ইরানের প্রেসিডেন্টও শুক্রবার জানান, কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছে। যদিও সে সব দেশের নাম প্রকাশ করেনি। তার পরেই জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, এ বার হয়তো সংঘাতে ইতি পড়তে পারে। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা পরে ট্রাম্পের মন্তব্যে সেই জল্পনায় জল পড়ল। এই প্রসঙ্গেই তিনি সমালোচনা করেন মোজতবা খামেনেই-এর, যিনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই-এর ৫৬ বছর বয়সি ছেলে। ট্রাম্প বলেন, এমন একজন “হালকা মানের” ব্যক্তির হাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্ব চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তাঁর কাছে “অগ্রহণযোগ্য”। এবার এই আবহে যেরকম মারণ হুমকির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী তাতে করে ইরানের ভবিষ্যত নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেই গেল তা বলাই বাহুল্য।