নীতীশ কুমারের শপথগ্রহণে রাজকীয় আয়োজন

অতিথিদের অভ্যর্থনায় নানান রাজ্যের বিখ্যাত খাবার। মেনুতে বিশেষ আকর্ষণ লিট্টি চোখা এবং মাখানার পায়েশ।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ২০ ডিসেম্বর দশমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করলেন নীতীশ কুমার। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সহ বিশিষ্টরা। হাজার হাজার মানুষকে সাক্ষী রেখে দশমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসলেন নীতীশ কুমার। 

বৃহস্পতিবার পটনায় আয়োজিত হওয়া এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানো বসেছিল চাঁদের হাট। রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মহলের ব্যক্তিত্বরাও উপস্থিত ছিলেন।  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রায় ১২টি বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদেরকে স্বাগত জানাতে চা এবং সেইসব রাজ্যের সুস্বাদু খাবারগুলির আয়োজন করা হয়েছিল। মেনুতে ছিল-

  • নিমকি
  • ধোকলা
  • মঠরি
  • গুজিয়া
  • বিহারের বিখ্যাত মিষ্ট ‘বার কি লাই’। চিনি, খোয়া, কাজু, কিশমিশ দিয়ে তৈরি হয় এই মিষ্টি
  • লিট্টি চোখা
  • মাখানার ক্ষীর

গান্ধী ময়দানে হ্যাঙার ও গ্রিন রুমে চা এবং জলখাবারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একটি প্রাইভেট হোটেলকে। বিহারি খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের প্রসিদ্ধ খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। মেনুতে বিশেষ আকর্ষণ ছিল লিট্টি চোখা এবং মাখানার ক্ষীর।  যেসব রাজ্যের প্রবীণ নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সামিল হয়েছিলেন। তাঁদেরকে সম্মান জানাতে হোটেলের তরফে উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশা, অসম, অরুণাচল প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মণিপুরের বিখ্যার খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়।

এর মাধ্যমে নীতীশ কুমারের সরকার যে বার্তা দিল তা হল- এটা কোনও একটা সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং খাওয়াদাওয়ার মহোৎসব।

খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি আমন্ত্রিতদের আতিথেয়তার আয়োজন করা হয়েছিল। নিরাপত্তা সহ সমস্ত বিষয়ে নজর দেওয়া হয়। যেকোনও বিপদ বা জরুরি পরিস্থিতিতে গান্ধী ময়দানের কাছেই অতিথিদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও অ্যাম্বুল্যান্স, মেডিক্যাল স্টাফ এবং এমার্জেন্সির ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসা মানুষজনেরও বসার এবং অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

জলখাবার এবং রাতের খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল অতিথি অভ্যাগতদের জন্য। পাশাপাশি ছিল মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা। সদ্য ভোটে জিতে আসা মৈথিলী ঠাকুর এবং লোকশিল্পীদের নাচে গানে জমে ওঠে অনুষ্ঠান। সবমিলিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে গান্ধী ময়দানে বিহার সরকারের এক অনন্য প্রচেষ্টা দেখা গেল। যাকে রাজ্যের সাস্কৃতিক, সামাজিক, রন্ধন শিল্পের সমৃদ্ধির মাধ্যমে বিহারের জনগণ এবং অতিথীদের জন্যও আরও স্মরণীয় করে তোলা হল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।