বিহারে আসন দ্বন্দ্বে জেরবার এনডিএ!

প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দ্বন্দ্ব এনডিএ-র অন্দরে। আসন ভাগাভাগি নিয়ে উত্তেজনা চরমে বিহারের রাজনীতিতে।

ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: মঙ্গলবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল এনডিএ। তবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই ফাটল দেখা যাচ্ছে বিজেপির অন্দরে। এনডিএ-র সমস্ত শরিকের ভিতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যদিও উচ্চপদস্থ নেতারা এখনও বলছেন পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে।

রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিহারে আসন বন্টন চূড়ান্ত করেছে এনডিএ। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও জেডিইউ সমান সংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বিহারে। বিহারের বিধানসভায় মোট আসন ২৪৩টি। ১০১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বিজেপি। অপর ১০১ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জেডিইউ। ২৯ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে চিরাগ পাসওয়ানের দল। বাকি ১২টি আসনের মধ্যে ৬ টি আসন পাচ্ছে রাষ্ট্রীয় লোকমোর্চা ও বাকি ৬ টি আসন পাচ্ছে হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা। এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই জেডিইউ দাবি করেছে, তাদের আসন ভাগ করে দেওয়া হয়েছে চিরাগের দলকে। এরই পাশাপাশি বিভিন্ন আসনে তারা প্রার্থী দিতেও রাজি হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত নিতিশের দল দুটি আসন ছেড়েছে। একটি তারাপুর অপরটি তেঘরা। কিন্তু এমনি এমনি নিতিশ এই দুটি আসন ছাড়েননি। তার বিনিময়ে বিজেপির একটি কেন্দ্র কাহালগাঁও নিয়েছে তারা।

আসন বন্টনের এই অঙ্ক সামনে আসতেই জল্পনা শুরু হয়ে যায় বিহারের রাজনীতিতে। কয়েকমাস ধরেই আসন বন্টন নিয়ে বিহার থেকে দিল্লি পর্যন্ত আলোচনা চলছিল। ২০২০-র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৭৪ টি আসন জিতেছিল এবং জেডিইউ ৪৩ টি আসন জিতেছে। তারপর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য নীতিশকেই চেয়ার ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও ২০২০ র বিধানসভা নির্বাচনে চিরাগ একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। যার ফল ভোগ করতে হয়েছিল এনডিএ জোটকে। আসন সংখ্যা ঘাটতিও দেখা গিয়েছিল। আর এই পরিস্থিতির জন্যই ২০২৫ এর বিধানসভা নির্বাচনে বিহারের রাজনীতিতে বিজেপি, চিরাগকে নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে। প্রথমে তাদেরকে ২৬ টি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং বলা হয় ভবিষ্যতে তাদেরকে রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদের আসন দেওয়া হবে। কিন্তু তাতে কোন লাভ হলো না বিজেপির।

অপরদিকে প্রশান্ত কিশোর মনে করছেন বিহারের মানুষ এবার তাদের উপর আস্থা রাখবে। বিহারের মানুষ পরিবর্তন চাইছে। প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরজ পার্টি ক্ষমতায় আসলে তারা নতুন আইন প্রণয়ন করবে। রাজ্যের সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। দেশের সর্বোচ্চ দশটি রাজ্যের মধ্যে একটি বিহারকে বানানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। এখন নজর বিধানসভা নির্বাচনের দিকে।