বারুইপুর পশ্চিমে ভোটের বাদ্যি

মহামিছিল দিয়ে প্রচার শুরু বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পশ্চিমে জোরকদমে ময়দানে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। আজ, রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ বারুইপুর পশ্চিমের দলীয় প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে এক বর্ণাঢ্য মহামিছিলের আয়োজন করা হয়। এই মিছিলের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মাসব্যাপী দীর্ঘ নির্বাচনী প্রচার যাত্রার সূচনা হলো।​মহামিছিলে জনজোয়ার​বিকেল থেকেই বারুইপুরের রাজপথ তৃণমূল কর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে ওঠে। দলীয় পতাকা, ফেস্টুন এবং ‘খেলা হবে’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। মহামিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান রাস্তা পরিক্রমা করে। মিছিলে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে পা মেলান কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই মিছিল ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা চোখে পড়ে।​উন্নয়নই প্রধান হাতিয়ার​প্রচার শুরুর প্রথম দিনেই বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকার মানুষের কাছে বিগত বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন,​”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় গত কয়েক বছরে বারুইপুর পশ্চিমের ভোল বদলে গিয়েছে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পানীয় জল এবং শিক্ষা— সবক্ষেত্রেই কাজ হয়েছে। এই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতেই মানুষ আবারও জোড়াফুল চিহ্নে আস্থা রাখবেন।”​একমাস ব্যাপী ঠাসা কর্মসূচি​আজকের এই মহামিছিলটি ছিল প্রচারের কেবল শুরু। দলীয় সূত্রের খবর, আগামী এক মাস বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ডে পদযাত্রা, কর্মীসভা এবং পথসভা করবেন। মানুষের দুয়ারে পৌঁছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এবং আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা জানাবেন তিনি।​রাজনৈতিক সমীকরণ​বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। টানা তিনবারের বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা এখানে তৃণমূলের বড় শক্তি। বিরোধীদের মোকাবিলায় প্রথম দিন থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ময়দান দখল করাই তৃণমূলের বর্তমান রণকৌশল।​এদিনের মিছিলে প্রার্থীর সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও ব্লক স্তরের একাধিক নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে রবিবাসরীয় বিকেলে বারুইপুরের রাজপথ কার্যত তৃণমূলের শক্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল।​নির্বাচনী আপডেট:​প্রার্থী: বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল কংগ্রেস)​কেন্দ্র: বারুইপুর পশ্চিম (১৪০)​প্রধান ইস্যু: উন্নয়ন এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা।