“নয়া ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রতিনিধি বিজেপি”

এসআইআরের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বিজেপিকে নয়া ফ্যাসিবাসী শক্তির প্রতিনিধি বলে তোপ দাগলেন বিমান বসু।

রিয়া দাস, সাংবাদিক : কথায় বলে বয়স কেবল সংখ্যামাত্র। এই কথার জল জ্যান্ত উদাহরণ রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান কমরেড বিমান বসু। পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের বাম রাজনীতির অন্যতম মুখ প্রবীণ এই নেতারা। বহু চড়াই উৎরাইয়ের সাক্ষী। সময় বদলেছে, বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণও। তবু নিজের বিশ্বাস, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানুষের পাশে থাকার যে অঙ্গীকার সেখান থেকে কখনও সরেননি তিনি। বয়সের ভারকে উপেক্ষা করে আজও তাঁকে দেখা যায় সভা-মিছিলে ও কর্মীদের মাঝে। বিমান বসু দলের পলিটব্যুরোর প্রাক্তন সদস্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক ও বর্তমানে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্যও। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের লাল শাসনের স্বর্ণযুগ যেমন দেখেছেন তেমনই পালাবদল পরবর্তী ক্ষমতাহীন সময়ে শূন্যতার কঠিন লড়াইয়েরও সাক্ষী। এবারের ভোটেও একইভাবে নিজের সেরাটুকু দিয়েই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করে চলেছেন বিমান বসু।

ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পথ চলার শুরু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মৌলানা আজাদ কলেজে পড়াশোনার সময় তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতীতিতে যুক্ত হন। তবে তারও আগে ১৯৫৪ সালে যখন তিনি স্কুলের ছাত্র তখনই বিধানসভার উপনির্বাচনের দলের হয়ে প্রচারে নামেন। ১৯৫৭ সালে তাঁর নাম পার্টির সদস্যপদের জন্য সুপারিশ করা হলেও বয়স ১৮ না হওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি। ছোট থেকেই তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সংগঠনের প্রতি যে টান তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। ১৯৫৫ সালে বাংলা-বিহার সংযুক্তিকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও ১৯৫৯ সালের ঐতিহাসিক খাদ্য আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নেন। ১৯৫৮ সালে প্রথমবার গ্রেফতার হন তিনি। এরপর ছাত্র আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে উঠে আসেন। ১৯৭০ সালে তিনি ভারতের ছাত্র ফেডারেশন বা এসএফআইয়ের প্রথম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক মাইলফলক। পরবর্তীতে তিনি সিপিএমের সাংগঠনিক স্তরে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেন। ১৯৭১ সালে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য কমিটির সদস্য, ১৯৮৫ সালে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ১৯৯৮ সালে পলিটব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে দলের রাজ্য সম্পাদক পদে ছিলেন তিনি।

২২ এপ্রিল বুধবার লেনিনের ১৫৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষ্ণনগরে পোস্ট অফিস মোড়ে উপস্থিত হন বিমান বসু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বাম প্রার্থী অদ্বৈত বিশ্বাস। সেখানে লেনিনের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান বিমানবাবু। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। তাঁর বক্তব্যে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও বর্তমান সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁকে এসআইআরের বিরু্দ্ধে সুর চড়াতে দেখা গেল। বিজেপিকে নয়া ফ্যাসিবাসী শক্তির প্রতিনিধি বলে তোপ দাগেন তিনি।

বয়স বিমান বসুকে থামাতে পারেনি। ৮৫ বছর পার করেও রাজনৈতিক ময়দানে বিমান বসুর উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয় সেই পুরানো লড়াইয়ের কথা। তাই বলাই যায় বয়সকে উপেক্ষা করেই তিনি অদম্য শক্তি নিয়েই এখনও এগিয়ে চলেছেন। তিনি আশাবাদী, লাল ফিরবে, বাংলার হালও ফিরবে।