৩১ হাজারের বেশি পাখির দেখা মিলবে, আশা বন দফতরের। ভিড় জমাচ্ছেন দেশি বিদেশি পর্যটকরা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: সুন্দরবনে শুরু হয়েছে চতুর্থ পাখি উৎসব। প্রতিবারের মতো এবারও ছ’টি দলে ২৪ জন পাখিপ্রেমী যোগ দিয়েছেন। দুই বিদেশি পাখিপ্রেমীও আছেন। প্রতিটি দলে রয়েছেন চার জন পাখিপ্রেমী, এক জন পাখি বিশেষজ্ঞ ও একজন বনকর্মী।

প্রথম পাখি উৎসবে দেখা মিলেছিল ১৪৫টি প্রজাতির পাখির। পাঁচ হাজারের বেশি পাখি সেই বার দেখেছিলেন পাখিপ্রেমীরা। তারপর থেকে প্রতি বারই পাখির সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালে তৃতীয় পাখি উৎসবে ১৫৪টি প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছিল সুন্দরবনে। এর মধ্যে ৫১টি পরিযায়ী প্রজাতি ছিল। সে বার ৩১ হাজারের বেশি পাখির দেখা মিলেছিল। তৃতীয় পাখি উৎসবে ১২টি বিপন্ন প্রজাতির পাখির দেখাও মিলেছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প। যার মধ্যে ইউরেশিয়ান কার্লিউ এবং ব্রাউন-উইংড কিংফিশার ছিল উল্লেখযোগ্য। এ বার আরও বেশি পাখির দেখা মিলবে বলে আশাবাদী বন দফতর।

পাঁচদিনের এই উৎসবে পাখিপ্রেমীরা সুন্দরবনের এক একটি রেঞ্জ এলাকায় ঘুরে বেড়াবেন। নির্জনে সেই এলাকায় জলযানে ঘুরে ঘুরে পাখিদের ছবি তুলবেন, পাখিদের প্রজাতি ও ঘনত্ব, সেখানকার আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিমাপ সংগ্রহ করবেন বিশেষজ্ঞেরা। পরে সে সব বিশ্লেষণ করে পাখির সংখ্যা, প্রজাতি-সহ পাখিদের পছন্দের স্থান নির্ধারণ করা হবে।

সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিন বলেন, ‘‘পর পর তিন বছরের পাখি উৎসবে ব্যাপক সাফল্য মিলেছে। আগের তুলনায় সুন্দরবন এখন পাখিদের জন্য অনেক নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সে কারণে প্রতি বছর পাখিদের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে পরিযায়ীর সংখ্যাও। চতুর্থ পাখি উৎসবে আরও বেশি সংখ্যায় পাখিদের দেখা মিলবে বলে আমরা আশাবাদী।” ফিল্ড ডিরেক্টর রাজেন্দ্র ঝাখর বলেন, ‘‘এ বার দু’জন ইউরোপীয় পাখিপ্রেমী উৎসবে যোগ দিচ্ছেন। বোঝাই যাচ্ছে, সুন্দরবন পাখি উৎসব শুধু দেশের পাখিপ্রেমীদের কাছে নয়, বিদেশিদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।’’