ভোটপ্রচারে ঝড় তুললেন বিশ্বজিৎ পাল

মূলত এলাকার অনুন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটানোর ডাক বিজেপি প্রার্থীর।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল তাঁর নির্বাচনী প্রচারে মূলত এলাকার অনুন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটানোর ডাক দিয়েছেন।
​তাঁর প্রচারের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হল:

​১. পরিবর্তনের ডাক
​বিশ্বজিৎ পাল তাঁর বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করছেন যে, বারুইপুর পশ্চিমের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একই দলের শাসন দেখে ক্লান্ত। তিনি দাবি করছেন, এলাকায় প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি এবং মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছে।
২. কর্মসংস্থান ও শিল্প
​প্রচারে তাঁর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বারুইপুর শিল্পতালুক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা খোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং স্থানীয় যুবকদের কাজের জন্য বাইরে যেতে হবে না।


৩. পরিকাঠামো উন্নয়ন
​এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জল এবং নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে তিনি বর্তমান বিধায়ক ও রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন। তিনি বলছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাত ধরে যে উন্নয়নের জোয়ার সারাদেশে বইছে, বারুইপুর পশ্চিমকেও সেই উন্নয়নের শামিল করতে হবে।”
৪. কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা
​প্রচারে তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে বোঝাচ্ছেন যে, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক জনহিতকর প্রকল্পের সুবিধা (যেমন- আয়ুষ্মান ভারত) এলাকার গরিব মানুষ পাচ্ছেন না।
৫. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন
​তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি একটি স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন উপহার দেওয়ার কথা বলছেন।
​একটি বিশেষ বিষয়: বিশ্বজিৎ পাল তাঁর প্রচারে অত্যন্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। যা ভোটারদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।
​২০২৬-এর এই নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিমে লড়াইটা মূলত বর্তমান বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের (তৃণমূল) সঙ্গে বিশ্বজিৎ পালের (বিজেপি) এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।