West Bengal SIR: ধর্ম পরিবর্তন হয়েছে মহঃ সেলিমের, কোথাও আবার জীবিত ব্যক্তি হয়েছে মৃত, খসড়া ভোটার তালিকায় হয়েছে এমনকী আজগুবি কাণ্ড

খসড়া তালিকায় বিরাট বিভ্রাট

খসড়া তালিকা তো প্রকাশ হল। কিন্তু সেই তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। এ যেমন ধরুন বর্ষীয়ান সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের (Md Salim) পরিবারে ঘটে গেছে পদবী বিভ্রাট। মহম্মদ সেলিমের ছেলে ও সেলিমের পদবী হয়ে গেছে অবস্তী। ডানকুনি পুরসভার কাউন্সিলরের সূর্য দে জীবিত থেকেও খসড়া তালিকায় মৃত। তিনি তো রেগেমেগে জীবিত অবস্থায় শ্মশানে গিয়েই প্রতিবাদ জানালেন। কাউন্সিলরও হেনস্থার শিকার। তাহলে ভাবুন সাধারণ ভোটারদের কী অবস্থা। এইরকম একাধিক অভিযোগ সামনে আসছে। যা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুসারে খসড়া তালিকায় নাম উঠেছে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১। তালিকায় যাদের নাম উঠেছে সেখানেও রয়ে গেছে ভুল ভ্রান্তি। বাঁকুড়ায় তো অবাক কাণ্ড।  খোদ বিএলওর দাদারও তালিকায় ত্রুটি। খসড়া তালিকা অনুসারে নিজের বুথের ভোটারদের পরিষেবা দিতে গিয়ে রীতিমত চমকে উঠলেন বাঁকুড়া বিধানসভার ৭০ নম্বর বুথের বিএলও জগবন্ধু দে। তালিকায় তাঁর নিজের দাদা রাজু দে র নাম, পিতার নাম, বয়স, লিঙ্গ সহ অন্যান্য তথ্য যথাযথ থাকলেও তাঁর নামের পাশে ছবি রয়েছে অজ্ঞাতপরিচিত মহিলার।

বিএলও জগবন্ধু দের দাবি তাঁর দাদা কাজের সূত্রে ভিন জেলায় রয়েছেন। কিন্তু অন্যান্য ভোটারদের মতোই তাঁর দাদাও এনুমারেশান ফর্মে যথাযথ তথ্য ও নিজের ছবি জমা দিয়েছিলেন তাঁর দাদা রাজু দে। সেই তথ্য তিনি নিজে হাতে কমিশনের পোর্টালে ডিজিটাইজড করেছিলেন। অর্থাৎ তাঁর সেক্ষেত্রে ভুল হয়নি। তারপরেও খসড়া ভোটার তালিকায় দাদার নামের পাশে কীভাবে মহিলার ছবি এলো তা দেখে হতবাক তিনি। তাঁর দাবি এর ফলে দাদার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। আগামীদিনে সংশোধনী ফর্ম পূরণ করে ছবি সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধন করতে হবে বলেও জানিয়েছেন ওই বিএলও।

ভাবুন একবার আপনি সঠিক তথ্য দিয়েও শান্তি পাবেন না। এই রকম গলদের ছবি যে কত উঠে আসবে তা হলফ করা বলা যেতেই পারে। নির্বাচন কমিশনের উচিত যাতে বৈধ ভোটাররা হেনস্থার শিকার না হন। এমনিতেই ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত খসড়া ভোটার তালিকা সংসক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোটাররা। তা খতিয়ে দেখবে নির্বাচন কমিশন। ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খসড়া ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি ও ভেরিফিকেশন চলবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তালিকায় নাম থাকার কথা ছিল কিন্তু ওঠেনি। এমন ভোটাররা প্রথম জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। দ্বিতীয় সিইও দফতরেও অভিযোগ জানাতে পারবেন, সেখানে কেন নাম বাদ গেছে কারণ জানানো হবে। প্রথম শুনানিতে অংশ নিতে না পারলে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া হবে। সবই তো হল কিন্তু এ যেন উটকো ঝামেলা। এমনটাই মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।