বিজেপির বাজি রেখা পাত্র !

“সন্দেশখালি ,হিঙ্গলগঞ্জ আমার কাছে একই। সবখানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত।”

শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় যেন চমকের টক্কর চলছে তৃণমূল বনাম বিজেপির।এবার সেই টক্করেই বিজেপির বাজি রেখা পাত্র। কি খুব চেনা লাগছে কি নামটা। যারা সবসময় আপডেট থাকের তাদেরকে আলাদা করে বলার কিছু নেই। তবে যাদের নামটা চেনা-চেনা লাগছে, এটা নিশ্চিত সন্দেশখালিতে নারী প্রতিবাদের কথা আপনারা ভোলেননি।প্রতিবাদের ছবিটা দেখলে আরও একটু পরিস্কার হবে।

৫ই জানুযারি ২০২৪।ইডিকে দৌড় করিয়ে মারধর করার অভিযোগ ওঠে শাহজাহান শেখের বাহিনীর বিরুদ্ধে।৭ ফেব্রুয়ারি সেই শাহজাহানের বাহিনীকে শুধু দৌড় নয়, লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করিয়েছিল সন্দেশখালির সাধারণ মানুষ। ৮ ফেব্রুয়ারি দিনভর দফায় দফায় উত্তপ্ত রইল সন্দেশখালি । এবার শাহজাহানের বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সামনে এসে দাঁড়ালেন অগণিত মহিলা। হাতে বাঁশ, লাঠি, হাতা, খুন্তি।অভিযোগ তুললেন নারী নির্যাতনের।আর এই প্রতিবাদের নেতৃত্বে ছিলেন এক সাধারন গৃহবধূ রেখা পাত্র। দীর্ঘদিনের অত্যাচারে নীপিড়িত হয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। গর্জে উঠেছিলেন রেখা।

তাকে দেখেই সাহস পেয়েছিলেন সন্দেশখালির অত্যাচারিত মহিলারা। সেসময় তৃণমূল নেতাদের একাংশের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন এলাকার মহিলারা। অভিযোগ তোলেন, রাতের অন্ধকারে দরজার ধাক্কা দেওয়া হত। বাড়ির মহিলাদের তৃণমূলের কার্যালয়ে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হত দিনের পর দিন। পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও লাভ মিলত না বলেই অভিযোগ। সন্দেশখালি কাণ্ডের পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শাহজাহান গ্রেফতার হন এবং পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাগুলো সিবিআই-এর হাতে হস্তান্তর করা হয়।বর্তমান তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত শেখ শাহজাহান সিবিআই হেফাজতে জেলবন্দি রয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্ট বার বার তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।তবে প্রতিবাদ থামাননি সাধারন এই গৃহবধূ। শেখ শাহজাহানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় তাকে।ততদিনে  উত্তর ২৪ পরগনাবাসীর কাছে বিশেষ করে  মহিলাদের কাছে গ্রহনযোগ্যতার এক নাম হয়ে ওঠেন রেখা। ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে সেই রেখা পাত্রকেই বসিরহাট কেন্দ্রের প্রার্থী করে চমক দিয়েছিল বিজেপি।

তবে সেই নির্বাচনে হেরে যান রেখা পাত্র। তৃণমূলের  হাজি নুরুল ইসলাম বসিরহাট আসনে  ৩,৩৩,৫৪৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ি হন। সন্দেশখালি আন্দোলন ও লোকসভা নির্বাচনের পরাজয়ের পরও দলের হয়ে কাজ করে গিয়েছেন রেখা পাত্র। ওই এলাকায় দলের সাংগঠনিক দিকও দেখেছেন।তাই রেখাতেই আস্থা  রাখে গেরুয়া শিবির।  এবার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে পদ্মশিবিরের হয়ে হিঙ্গলগঞ্জ থেকে লড়বেন বঙ্গবধূ।দলের এই সিদ্ধান্ত দায়িত্ব সহকারে পালন করবেন করে জানান রেখা। এদিন সাধারনের মধ্য লাড্ডু বিতরনের মাধ্যমে জনসংযোগ করতে দেখা যায় তাকে। তার কথায় সন্দেশখালী হোক বা হিঙ্গলগঞ্জ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রূপ একই।লড়াইয়ের কোনও বিকল্প হয় না।

তবে প্রশ্ন উঠছে বসিরহাট ছেড়ে কেনও হিঙ্গলগঞ্জের জন্যি প্রার্থী হিসাবে বেছে নেওয়া হল সন্দেশখালির এই নারী প্রতিবাদী মুখকে। যদিও চব্বিশে বসিরহাটে তাকে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি কারন ছিল। চব্বিশের নির্বাচনে বাংলা দখলে বিজেপির মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালি। বিজেপির প্রচারে বারবার ফিরে এসেছিল সন্দেশখালি প্রসঙ্গ। মূলত এই একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলকে ধরাশায়ী করার পরিকল্পনা নিয়েছিল গেরুয়া শিবির। তাই বসিরহাট আসনটি নিশ্চিত করতে প্রার্থী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল প্রতিবাদী মুখ রেখা পাত্রকে। ভূমিকন্যাকে অবলম্বন করেই ভোটের অঙ্ক কষতে চেয়েছিল পদ্মশিবির। অনেকেই তখন বলেছিলেন, প্রার্থী নির্বাচনই ছিল মোদির মাস্টারস্ট্রোক। বসিরহা লোকসভা কেন্দ্রে জয় না পেলেও সন্দেশখালি বিধানসভা কেন্দ্রে লিড পায় বিজেপি।  যাকে রেখা পাত্রের নেতৃত্বে সন্দেশখালির মহিলাদের প্রতিবাদের নৈতিক জয় হিসাবে তুলে ধরে গেরুয়া শিবির। এখন  হিঙ্গলগঞ্জের ক্ষেত্রে কোন স্ট্র্যাটেজি কাজ করছে পদ্ম শিবিরে। এক্ষেত্রে অবশ্য প্রার্থীর সোজা-সাপটা উত্তর সন্দেশখালি ,হিঙ্গলগঞ্জ তার কাছে একই। সবখানেই তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত।

বসিরহাটে জিততে না পারলেও দলযে তাকে ফের লড়ার সুযোগ দিয়েছে , তাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রেখা পাত্র। পাশাপাশি হিঙ্গলগঞ্জে লড়ার ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ আশাবাদী বলেও জানান তিনি।

হিঙ্গলগঞ্জে নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে একাধিন পরিকল্পনার কথা জানান সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখ। রাজ্যের লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় তারও নাম রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার কারুর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়! আমাদের করের টাকা আমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে। আমরা ক্ষমতায় এলে মায়েদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের 3000 টাকা দেওয়া হবে।

একদিকে হিঙ্গলগঞ্জে দেবেশ মণ্ডলের জায়গায় তৃণমূলের নতুন মুখ আনন্দ সরকার। এই কেন্দ্রেই বামেরা প্রার্থী করেছে  সিপিআই-এর সৌমেন হালদারকে। অন্যদিকে বিজেপির প্রতিবাদী মুখ রেখা পাত্র।  হিঙ্গলগঞ্জে এিমুখী লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে এখন সেটাই দেখার।