এই ৬ কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে হিমশিম বিজেপি !

চতুর্থ দফা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ফেলেছে বিজেপি। সেখানে ১৩টি কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। বাদ পড়ে মোট ছটি কেন্দ্র।

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : রইল বাকি ৬। চতুর্থ দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ফেলেছে বিজেপি। এখনও বাকি ৬টি কেন্দ্র। বাংলায় প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। সেই প্রধান বিরোধী দল কেন বাকি রাখল এই ৬টি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে? ছয়ে ছক্কা হাকাতে চাইছে এই কেন্দ্রগুলি থেকে? নাকি প্রার্থী খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে বিজেপি ? ৬টি কেন্দ্রেরই ভোট দ্বিতীয় দফায়। বেছে বেছে বিজেপি যে ছটি কেন্দ্রে এখনও প্রার্থী দেয়নি, তার মধ্যে ২টিতে বিজেপি গতবারে জয় ছিনিয়ে নেয়। বাকি ৪ কেন্দ্রে শেষ হাসি হেসেছিল তৃণমূল। কোন কোন সেই ছটি কেন্দ্র? কেন প্রার্থী দিতে পারছে না বিজেপি ? কোন সমীকরণ করছে বিজেপি ? ৬ কেন্দ্রের মধ্যে কোন দুটিতে বিজেপি জয়লাভ করেছিল ? সেই দুটিতেও কেন এত দেরি ? সেখানে কি সংগঠন আগের মতো মজবুত নয় ? নাকি দলের অন্তঃদ্বন্দ্ব মেটাতে প্রার্থী বাছতে সময় নিচ্ছে পদ্মশিবির ?

চতুর্থ দফা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে ফেলেছে বিজেপি। সেখানে ১৩টি কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। বাদ পড়ে মোট ছটি কেন্দ্র। যার মধ্যে রয়েছে-

ছয়ে হিমশিম বিজেপির

কৃষ্ণনগর উত্তর
কল্যাণী
নবদ্বীপ
দমদম উত্তর
মধ্যমগ্রাম
কলকাতা বন্দর

এর মধ্যে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর ও কল্যাণীতে জয়লাভ করেছিল বিজেপি। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে ৩৫ হাজার ভোটে তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন মুকুল রায়। কল্যাণীতে ব্যবধান খুব কম থাকলেও জয়লাভ করেন বিজেপির অম্বিকা রায়। জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ২, ২০৬ ভোট। নবদ্বীপে জয়লাভ করেন তৃণমূল প্রার্থী পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা। ১৮ হাজার ৫৭১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন তিনি। দমদম উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৮৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ৯৫ হাজার ৪৬৫ টি ভোট পান তিনি। মধ্যমগ্রামে জয়লাভ করেছিলেন রথীন ঘোষ। প্রাপ্ত ভোট ১ লক্ষ ১২ হাজার ৭৮১। বিজেপি প্রার্থীকে ৪৮ হাজার ১২৬ ভোটের ব্যবধানে হারান রথীন। কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১ লক্ষ ৫ হাজার ৫৪৩। জয়ের ব্যবধান ছিল ৬৮ হাজার ৫৫৪।

বিজেপির প্রার্থী না দিতে পারা কেন্দ্র কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছে অভিনব ভট্টাচার্যকে। কল্যাণীতে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছে ডাঃ অতীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে। নবদ্বীপ থেকে আগের মুখকেই ফের বেছে নিয়েছে তৃণমূল। প্রার্থী করা হয়েছে পুণ্ডরীকাক্ষ সাহাকে। দমদম উত্তর থেকে ফের প্রার্থী করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। মধ্যমগ্রামে প্রার্থী হয়েছে রথীন ঘোষ। কলকাতা বন্দর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সেই চেনা মুখ ফিরহাদ হাকিমকে।

মধ্যমগ্রাম, কলকাতা বন্দর, দমদম উত্তরে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা। হেভিওয়েটদের উল্টোদিকে হেভিওয়েটই কাউকে বাছতে চলেছে বিজেপি? নাকি একেবারে নবাগত মুখতে তুলে আনতে চলেছে তাঁরা। কিন্তু সব থেকে যে দুটি আসন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তা হল কৃষ্ণনগর উত্তর ও কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রকে নিয়ে। গত বিধানসভা ভোটে কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট যেখানে ছিল এক লক্ষের বেশি। জয়ের ব্যবধান ছিল ৩৫ হাজারেরও বেশি। সেখানে প্রার্থী দিতে এত দেরি কেন ?

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা বিজেপির গড়ে পরিণত হয়েছে। সেবার এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি ৫৩ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিল। তারপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী মুকুল রায় ৩৫ হাজার ভোটে জয়ী হন। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফের এই কেন্দ্রে বিজেপি ৫৩ হাজার ভোটে তৃণমূলের থেকে এগিয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই বিগত সাত বছরে নদীয়া জেলার এই কেন্দ্র গেরুয়া দুর্গে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিজেপির তিন দফার প্রার্থী তালিকাতেও কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার নাম না থাকায় কিছুটা হতবাক হয়েছেন পদ্ম শিবিরের নীচুতলার কর্মীরা। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর ‘সন্ধান চাই’ বলেও ট্রোল করছেন।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ একটি কেন্দ্র কল্যাণী। আগের বারে ৯৭ হাজার ২৬টি ভোট পেয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন বিজেপির অম্বিকা রায়। যে কোনও রকমের প্রতিবাদ, মিটিং, মিছিলে স্বশরীরে উপস্থিত থাকেন তিনি। মঙ্গলবারও কল্যাণীর বিজেপি বিধায়ক কার্যালয়ের সামনে ঘেরাও কর্মসূচিতে সামিল হন তিনি। মানে মাটি কামড়ে নিজের কেন্দ্রের জন্য লড়াই করছেন তিনি। তারপরও এই কেন্দ্রে প্রার্থী খুঁজে পেল না বিজেপি। তাহলে কী অম্বিকাকে আর পছন্দ নয় বিজেপির ? খুঁজছে নতুন কোনও মুখ ? শক্ত ঘাঁটিগুলিকে প্রার্থী ঘোষণায় এতো গড়িমসি কেন? প্রশ্ন উঠছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই। যেখানে তৃণমূল, সিপিএম প্রার্থী চুটিয়ে প্রচার সারছেন সেখানেই ভোট ময়দান থেকে কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে বিজেপি।