ভোটার তালিকায় একটি নাম থাকা মানে শুধু একটি নাম থাকা নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। আর সেই ভোটার তালিকা থেকেই যদি একসঙ্গে বহু নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে এর পিছনে আসল ঘটনা কী ?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
কর্নাটকের বেলগাভি থেকে সামনে আসা একটি ঘটনায় এখন সেই প্রশ্নই আরও জোরালো হয়েছে। অভিযোগ, এক বিজেপি নেতা একাই ১৯৮ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ওই তালিকায় মুসলিম ভোটারদের নামও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিজেপি নেতা রবি পাটিলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে কর্নাটক পুলিশ। পরিষ্কার করে বলা দরকার, এই ১৯৮ জনের নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে এমনটা নয়। অভিযোগটি হল, তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। গোটা বিষয়টিই এখন তদন্তাধীন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,
বেলগাভি মার্কেট থানায় ৩০ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের হয়
অভিযোগকারীর বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য
একাধিক ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল
পুলিশের দাবি, ওই আবেদনগুলির মাধ্যমে মোট ১৯৮ জন
ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল
অভিযোগের ভিত্তিতে রবি পাটিলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়
রবি পাটিলের বিরুদ্ধে প্রতারণা,জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এখানেই উঠে আসছে ফর্ম-৭-এর প্রসঙ্গ। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় থাকা কোনও নাম নিয়ে আপত্তি জানানো বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করার জন্য ফর্ম-৭ ব্যবহার করা হয়। ফলে এই ফর্মে কারও নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়লেই যে সেই নাম সরিয়ে দেওয়া হবে তা নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদন যাচাই করা হয় ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। কিন্তু যখন একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার আবেদন আসে তখন সেই আবেদনগুলির সত্যতা ও আবেদনকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক।
বেলগাভির ঘটনায় পুলিশের অভিযোগ, একজন ব্যক্তি একাই এত সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের মধ্যে মুসলিম ভোটারও ছিলেন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এই আবেদনগুলি কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল? কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ও আবেদনগুলিতে দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল কি না। ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজ্যের শাসকদল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকেও এই এফআইআর ও অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শুধু বেলগাভি নয়, কর্নাটকের আরও কয়েকটি জায়গাতেও ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়ার আবেদনকে ঘিরে অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। আপনার কী মনে হয় ১৯৮ জনের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন কেন করা হয়েছিল ? এর পিছনে কি অন্য কোনো কারণ আছে। আপনাদের মতামত অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।