গঙ্গাসাগরে বিজেপি নেতাকে গুলি, পথ অবরোধে রণক্ষেত্র সাগর

স্কুটিতে চেপে কয়েকজন দুষ্কৃতী এলাকায় আসে। তিলকেশবাবুকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েই তারা চম্পট দেয়। পাল্টা প্রতিবাদে তৃণমূল।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোটের মুখে ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর। বুধবার সকালে সাগরের শ্রীধাম এলাকায় নিজের বাড়ির কাছেই গুলিবিদ্ধ হলেন বিজেপি নেতা তিলকেশ ঢালী। দুষ্কৃতীদের অতর্কিত হামলায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।​প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বুধবার সকালে একটি স্কুটিতে চেপে কয়েকজন দুষ্কৃতী এলাকায় আসে। তিলকেশবাবুকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েই তারা চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। ​এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে সাগরের রুদ্রনগর এলাকায় শুরু হয় বিশাল পথ অবরোধ। টানা ৫ ঘণ্টা ধরে চলে এই বিক্ষোভ। এর জেরে পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল এবং ভেসেল পরিষেবা। বিপাকে পড়েন সাধারণ নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগরে আসা ভিন রাজ্যের পুণ্যার্থীরাও। বিজেপির দাবি, তিলকেশ ঢালী এলাকায় সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত, তাই রাজনৈতিক চক্রান্ত করেই তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। এই অবরোধের জেরে চরম সমস্যায় পড়েন প্রথম বর্ষের ফার্স্ট সেমিস্টার পরীক্ষার্থীরা। ছাত্রছাত্রীদের এই হয়রানির প্রতিবাদে রুদ্রনগরে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তদন্তের আগেই রাস্তা আটকে জনজীবন বিপর্যস্ত করা অনুচিত। তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রতিবাদ শোভা থেকে জানানো হয়েছে পুলিশকে ৭ দিনের মধ্যে দোষীকে খুঁজে বের করতে হবে এবং কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।​বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।