“প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করেছেন, ২৫ বৈশাখ—অর্থাৎ ৯ মে—এই সরকার শপথ নেবে। বাংলার ইতিহাসে এই দিনটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ২৫ বৈশাখেই শপথ নিতে চলেছে বাংলার নতুন সরকার। ভারতীয় জনতা পার্টি-নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ৯ মে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মবার্ষিকীর দিনই শপথ নেবে বলে জানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই দিনটিকে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে ব্যাখ্যা করেন।
শমীকবাবুর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করেছেন, ২৫ বৈশাখ—অর্থাৎ ৯ মে—এই সরকার শপথ নেবে। বাংলার ইতিহাসে এই দিনটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের দিন বেছে নিয়ে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এক প্রতীকী বার্তা দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির পতাকা ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে শমীক বলেন, “এই ধরনের ঘটনায় আমরা নিন্দা জানাই। কেউ যদি এমন কাজ করে, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করতেও আমরা পিছপা হব না।” একইসঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে উচ্ছ্বাসের আবহে সংযমের বার্তাও দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, “জয়ের আনন্দ উদযাপন করুন, কিন্তু এমন কিছু করবেন না যাতে কারও মনে আঘাত লাগে। আমাদের জয় যত বড়, দায়িত্বও তত বড়।”
এই নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশে থাকা বাঙালিরাও পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেছেন। “টরন্টো থেকে সিলিকন ভ্যালি—সব জায়গা থেকে সমর্থন এসেছে। পরিযায়ী শ্রমিকরাও নিজেদের খরচে ভোট দিতে এসেছেন,” বলেন তিনি।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ডাকও শোনা গিয়েছে তাঁর কথায়। শমীকবাবুর দাবি, বিজেপির লক্ষ্য শুধু সরকার বদল নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদল এবং সামাজিক বহুত্ববাদ পুনরুদ্ধার করা। “ডবল ইঞ্জিন সরকার” গঠনের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উন্নয়নই বিজেপির লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
এদিকে বিরোধীদের “অনৈতিক জয়” মন্তব্য উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। নাম না করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনার জবাবে বলেন, “ওরা যা বলার বলুক, তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না।”
প্রসঙ্গত, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ভবানীপুর কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই ফলাফলকে বাংলার রাজনীতিতে এক বড় মোড় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।