ইন্ডি জোটের সমাবেশকে ‘রাহুল রিলঞ্চ’ বলে কটাক্ষ বিজেপির

রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘চলো দিল্লি’ মেগা সমাবেশের আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে অনড় বিরোধী জোট ‘ইন্ডি’র নেতারা। অন্যদিকে, এই সমাবেশকে কটাক্ষ করে বিজেপির দাবি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নতুন করে রাজনৈতিক প্রচারের আলোয় নিয়ে আসতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

আর প্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা। এর আগে ৩১ অক্টোবর দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি পালন করা হয়। রবিবারের সমাবেশে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমন্ত সোরেন, রেবন্ত রেড্ডি, তেজস্বী যাদব এবং অখিলেশ যাদবের মতো নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা।

সিপিআই সাংসদ পি সন্তোষ কুমারের দাবি, আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে রবিবারের দিনটি বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। তাঁর বক্তব্য, এই সমাবেশে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের জমায়েত হতে পারে। এত মানুষের প্রতিবাদের মুখে জ্ঞানেশ কুমারকে পদ ছাড়তেই হবে। তিনি বলেন, “আজ রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের দলগুলির বিশাল সমাবেশ হতে চলেছে। আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দিনটি বিশেষ জায়গা করে নেবে। ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। মানুষের এই বিপুল প্রতিবাদের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারবেন না। জ্ঞানেশ কুমারকে পদ ছাড়তেই হবে।”

একই সুর শোনা গিয়েছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) নেতা মনোজ পাণ্ডের গলাতেও। শনিবারের ‘মক পার্লামেন্ট’ বা প্রতীকী সংসদে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাশ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মনোজ পাণ্ডে বলেন, “শনিবারের কর্মসূচি সফল হয়েছে। আজ মহাসমাবেশ। সকাল থেকেই দিল্লির রাস্তায় মানুষের ঢল নেমেছে। দলে দলে মানুষ রামলীলা ময়দানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এত বড় আন্দোলন বা জনসমাগম দিল্লি আগে দেখেছে বলে আমার মনে হয় না। আমি নিশ্চিত, আজকের সমাবেশ আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে। জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতেই হবে।”

অন্যদিকে, বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। দলের মুখপাত্র জয়বীর শেরগিলের কটাক্ষ, এটি আসলে রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা। তাঁর দাবি, রবিবারের ছুটির দিনে রাহুলকে ব্যস্ত রাখতেই কংগ্রেস এই প্রচারমূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এতে বিপুল অর্থ খরচ হলেও রাজনৈতিক লাভ হবে না। ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ নিয়েও বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বিজেপি। জয়বীর শেরগিলের প্রশ্ন, ভোটে কারচুপি হয়ে থাকলে রাহুল গান্ধী কীভাবে লোকসভা নির্বাচনে দুটি আসনে জিতলেন? তাঁর ছেড়ে দেওয়া ওয়েনাড়ের আসনে তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীই বা কীভাবে জয়ী হলেন? একইভাবে তেলঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ এবং কর্নাটকে কংগ্রেস কীভাবে ক্ষমতায় এল?

পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, তামিলনাড়ুতে গত ৫৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে, পশ্চিমবঙ্গে ৪৯ বছর, সিকিমে ৪২ বছর, উত্তরপ্রদেশে ৩৭ বছর, বিহারে ৩৬ বছর, গুজরাতে ৩০ বছর, ওড়িশায় ২৬ বছর, নাগাল্যান্ডে ২৩ বছর এবং মহারাষ্ট্রে ১২ বছর ধরে কংগ্রেস কেন মুখ্যমন্ত্রীর পদে নেই? এদিকে, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মরণে পশ্চিম দিল্লিতে পাল্টা মিছিলের আয়োজন করেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, দাঙ্গার বার্ষিকীর দিনেই রাজনৈতিক সমাবেশ করছে কংগ্রেস। রবিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে হরি নগর বাস ডিপো থেকে তিলক নগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত এই মিছিল হওয়ার কথা।