বিরোধীদের SIR আন্দোলন, পাল্টা কৌশল ঠিক করতে বৈঠকে বিজেপি

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এক দিকে, এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। অন্য দিকে, বিরোধীদের প্রতিবাদের মোকাবিলায় নিজেদের প্রচার ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বৈঠকে বসছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দলের সদর দফতরে এই বৈঠক হয়। উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, অশ্বিনী বৈষ্ণব-সহ এসআইআর প্রচারের দায়িত্বে থাকা দলের শীর্ষ নেতারা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি ও প্রতিবাদের আবহে বিজেপির প্রচার কতটা এগিয়েছে, সংগঠন কতটা প্রস্তুত এবং বিরোধীদের অভিযোগের মোকাবিলা কী ভাবে করা হবে, বৈঠকে সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এসআইআর নিয়ে নিজেদের অবস্থান সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্রিয় গেরুয়া শিবির।

এ দিনই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্মৃতি ইরানি, বিপ্লব কুমার দেব এবং তরুণ চুঘের মতো নেতারা।

বুধবার দিল্লির চাঁদনি চকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা দূর করো’ পদযাত্রায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন নবীন। তাঁর দাবি, মোদীর হাতে গণতন্ত্র সুরক্ষিত। একই সঙ্গে সংবিধান নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেতা সংবিধানের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাশীল নন।

অন্য দিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, বিকেল সাড়ে ৩টেয় প্রতীকী ইমপিচমেন্ট কর্মসূচি করার পরিকল্পনা করেছে ইন্ডিয়া জোট। কংগ্রেসের অভিযোগ, সংবিধান লঙ্ঘন করে নির্বাচনী গণতন্ত্রকে দুর্বল করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

এর পর ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘দিল্লি চলো’ মিছিল ও জনসভার ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওই কর্মসূচির জন্য দিল্লি পুলিশ আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে নো অবজেকশন জানিয়েছে। তবে জমির মালিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি-সহ নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে আয়োজকদের। এসআইআরকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই পাল্টা কর্মসূচিতে উত্তপ্ত রাজধানীর রাজনীতি।