কংগ্রেসের বিক্ষোভের পাল্টা পথে বিজেপি

দেশজুড়ে কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি বিজেপির।

আরপ্লাস নিউজ ডিিটালয়, এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। মঙ্গলবার লোক কল্যাণ মার্গে কংগ্রেসের আন্দোলনের পর বুধবার দেশজুড়ে কংগ্রেসের দফতরের সামনে পাল্টা বিক্ষোভে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। দলীয় সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের ‘বিশৃঙ্খল ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’-এর প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের দিকে মিছিল করেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, মল্লিকার্জুন খড়্গে-সহ একাধিক নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মিছিল ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ কয়েক জন বিরোধী নেতাকে আটকও করে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এবার পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে নেমেছে বিজেপি।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন কংগ্রেসের এই কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দলনেতার পদে থাকা সত্ত্বেও রাহুল গান্ধীর আচরণ ‘অশোভন’ এবং ‘নিন্দনীয়’। তাঁর দাবি, গণতন্ত্রে বিরোধিতার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই তারও কিছু সীমারেখা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলেই তা গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ নয়, বরং নৈরাজ্যের রূপ নেয়। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীের বাসভবনের সামনে গিয়ে কংগ্রেস যে পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছে, তা বিরোধী রাজনীতির বদলে অরাজক রাজনীতির পরিচয় বহন করে।

একই সুরে সরব হন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্রও। তিনি বলেন, সংসদের ভিতরে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা বা বিতর্ক গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অঙ্গ। কিন্তু বিক্ষোভেরও নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রোটোকল রয়েছে। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রীের সরকারি বাসভবন দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে পড়ে। সেখানে অনিয়ন্ত্রিত জমায়েত হলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। কোনও অসামাজিক ব্যক্তি যদি সেই সুযোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভাঙার চেষ্টা করে, তবে তার দায় কে নেবে— সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্র সরকার জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি কড়াকড়ি এবং বিরোধী নেতাদের আটক করার ঘটনাও গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী বলে দাবি করছে তারা। এই ইস্যুতেই গত কয়েক দিন ধরে সংসদের ভিতরে ও বাইরে টানা অচলাবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

একদিকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ধারাবাহিক আন্দোলন, অন্যদিকে তার পাল্টা বিজেপির দেশব্যাপী বিক্ষোভ— সব মিলিয়ে শিক্ষা, প্রশ্নফাঁস এবং রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে রাজধানী থেকে রাজ্য, সর্বত্রই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।