অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা দিয়ে সুর চড়ালেন বিপ্লব দেব।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় অঞ্চলে শক্তি প্রদর্শনে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি। সোমবার সাগর উপকূলের পর্যটন কেন্দ্র বকখালী থেকে জাঁকজমকপূর্ণ ‘পরিবর্তন যাত্রা’ বা রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব। রথযাত্রার সূচনার পাশাপাশি এদিন বকখালীতে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এদিন বকখালীতে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই রথযাত্রার ‘ফ্ল্যাগ অফ’ করা হয়। বিপ্লব দেবের পাশাপাশি এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য নেত্রী শর্বরী মুখার্জি এবং জেলা স্তরের একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্ব। উদ্বোধনী ভাষণে বিপ্লব দেব স্পষ্ট জানান, এই যাত্রা কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি বাংলার সাধারণ মানুষের মুক্তির পথ। বিজেপি সূত্রে খবর, এই রথ বকখালী থেকে শুরু হয়ে কাকদ্বীপের বুক চিরে পাথরপ্রতিমায় গিয়ে সমাপ্ত হবে। যাত্রাপথের বিভিন্ন জনপদ ও মোড়ে মোড়ে পথসভা এবং নিবিড় জনসংযোগের পরিকল্পনা রয়েছে দলের।রথযাত্রার সূচনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া জবাব দেন বিপ্লব দেব। রবিবার মথুরাপুরের জনসভা থেকে অভিষেক কটাক্ষ করে বলেছিলেন যে, বিজেপির রথযাত্রার চেয়ে জেসিবি দিয়ে মাটি কাটা দেখতে বেশি ভিড় হয়। এর জবাবে বিপ্লব দেব বলেন, “বিজেপির কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণজোয়ার দেখে শাসকদল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সেই ভয় থেকেই জেসিবি দিয়ে মাটি কাটা দেখার মতো কুরুচিকর ও সস্তা তুলনা টানা হচ্ছে। বাংলার মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছে এবং সেই পরিবর্তনের ঢেউ কোনোভাবেই আটকানো সম্ভব নয়।” এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে বিপ্লব দেব মূলত চারটি প্রধান ইস্যুকে হাতিয়ার করেন: তিনি সাফ জানান, ভোটার তালিকায় যে সমস্ত বিবেচনাধীন বিষয় বা অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কোনোভাবেই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট করা সম্ভব নয়।

বিজেপি নেতা জ্ঞানেশ কুমারকে কালো পতাকা দেখানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বিরোধী দলের এই ধরণের সংস্কৃতি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিরোধীদের তোলা নারী নির্যাতন বা উন্নয়ন নিয়ে বঞ্চনার অভিযোগ নস্যাৎ করে তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিজেপি শাসিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলোতেই প্রকৃত নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সুনিশ্চিত হয়েছে, যা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। নারী নিরাপত্তা ও অপরাধের হার নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে তিনি অভিযোগ করেন। বকখালীতে এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এদিন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। জেলা নেতৃত্বের দাবি, এই যাত্রার মাধ্যমে উপকূলবর্তী এলাকায় দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে। কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। সব মিলিয়ে, বকখালী থেকে পাথরপ্রতিমা—বিজেপির এই রথযাত্রা যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।