মহেশতলায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে !

বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সংগঠনিক জেলার দলীয় কোন্দলে মহেশতলায় তুমুল বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি চলল বিজেপির নেতা ও কর্মীদের মধ্যে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা, মহেশতলা: ডায়মন্ড হারবারে সরিষার পর ফের বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল মহেশতলায়। বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সংগঠনিক জেলার দলীয় কোন্দলে মহেশতলায় তুমুল বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি চলল বিজেপির নেতা ও কর্মীদের মধ্যে।

বিজেপির ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার মহেশতলার ৬ নম্বর মন্ডলের একটি বৈঠক চলছিল মহেশতলার নুঙ্গি স্টেশন সংলগ্ন বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে। অভিযোগ , সভার মধ্যেই প্রাক্তন জেলা সভাপতি অভিজিৎ সর্দার এর সাথে বেশ কিছু বিজেপি কর্মীর তর্কবিতর্ক হয়। এরপর সেই তর্ক বিতর্ক থেমে গেলেও পার্টি অফিস থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি অভিজিৎ সর্দার। তারপর বিজেপিরই প্রাক্তন বস্তি উন্নয়ন সেলের কনভেনার সঞ্জীব সেনকে লক্ষ্য করে গরম চা ছুড়ে দেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি। আক্রান্ত বিজেপি কর্মী সঞ্জীব সেনের অভিযোগ, সেই গরম চা তার ডান চোখে পড়ে। তৎক্ষণাৎ তার চোখে জ্বালা এবং যন্ত্রণা অনুভব করেন। চোখে দেখতেও সমস্যা হচ্ছে তাঁর। এরপরই ঘটনার খবর পেয়ে মহেশতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত বিজেপি কর্মী সঞ্জীব সেন মহেশতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। থানা থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য বেহালার বিদ্যাসাগর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে।

যদিও এই ঘটনায় প্রাক্তন জেলা সভাপতি অভিজিৎ সর্দার এবং বর্তমান জেলা সভাপতি সোমা ঘোষকে ফোন করা হলে তারা কেউই ফোন ধরেননি। সবমিলিয়ে দলের ভিতরকার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে নিজেরাই জেরবার গেরুয়া শিবির। সামনেই ২০২৬ লোকসভা নির্বাচন। তার আগে ইতিমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আসরে ভোটারদের মনজয় করতে বেরিয়ে পড়েছেন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। সেই নিরিখে অনেকটাই পিছিয়ে বঙ্গ বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে এইধরণের বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল দেখা দিলে ভোটে জয়লাভ তো দূরের কথা, ভোটে লড়াই করতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট দানা বাঁধছে। যদিও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জয় নিয়ে যথেষ্ট নিশ্চিত। তাঁর দাবি বঙ্গে এসআইআর চালু হওয়ার পর, অবৈধ বাংলাদেশি ভোটারদের নাম বাদ যাবে। অবৈধ ভোটাররা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেলে বিজেপির জয় সহজ হবে। তবে এটা কি সত্যিই এতটা সহজ। ভোটবাক্সের হিসেবে মার্জিন কমিয়ে তৃণমূলকে ছাপিয়ে যেতে পারবে বিজেপি? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।