বিয়ের আগের দিন নিজেকে শেষ করলেন BLO

এসআইআরের বৈঠকে যোগ না দেওয়ায় বহিষ্কৃত ওই যুবক যোগীরাজ্যে নিন্দনীয় ঘটনা

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিনিধি :  খুব কম সময়েই করে ফেলতে হবে এক জরুরি কাজ, যে কাজে এত টুকু ভুল এতটুকু গাফিলতি হলে চলবে না, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর কোন ভুলচুক হলে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গেলে এর সমস্ত দায় পড়বে বিএলওর ওপরেই আর তাই এই মুহূর্তে এক বিরাট চাপের মধ্যে নির্ভুল ভাবে কাজ করার সমস্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএলওরা কিন্তু এই আবহেই বিভিন্ন জায়গা থেকে যে খবর সামনে আসছে তা কার্যত মেনে নেওয়া যায় না, এই রাজ্য তো বটেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে উঠে আসছে একের পর এক বিএএলওর প্রাণহানির খবর। যা কার্যত মর্মান্তিক, আর এর হাত ধরেই প্রশ্ন উঠছে এই প্রাণহানির দায় কার? আঙুল উঠছে কমিশনের দিকেই বলাই যায়। এসআইআরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বিএলও। ফর্ম বিলি পর্ব শেষের পরের ফেজ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খবর আসতে শুরু করে, যে বিএলওরা অসুস্থ হতে শুরু করছেন। দিকে দিকে বিক্ষোভ শুরু করেন বিএলওদের একাংশরা,কারণ  শুধু ফর্ম জমা নিলেই হবে না, ডিজিটাইজ করে কমিশনের নির্দিষ্ট অ্যাপে আপলোড করতে হবে, কমিশনের এই  নির্দেশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কিন্তু বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে যে ঘটনা ঘটল তা যে কতটা নিন্দার তা বলাই বাহুল্য। প্রবল কাজের চাপ সামলাতে না পেরে বিয়ের আগের দিন নিজেকে শেষ করতে বাধ্য হলেন এক বিএলও। ২৫ বছরের সুধির কুমারকে ২৫ নভেমবর নিজের ঘরেই ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপরেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন কুমারের বোন। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেছেন, বিয়ের প্রস্তুতির কারণে রবিবার এসআইআর সংক্রান্ত একটি বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি ওই সরকারি করণিক। কুমারের বোন জানিয়েছেন, এরপর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তাঁর ভাই। ২৬ তারিখেই তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের আগেরদিন এমন চরম পদক্ষেপের জন্য পরিবার সম্পর্ক বা পারিবারিক কোনও কারণ নয়, এসআইআর-কেই দুষছে পরিবার। এখানেই শেষ নয়, যোগীর উত্তরপ্রদেশেই আরও এক বিএলও আত্মহনন করেছেন বিষ খেয়ে শুধু তাই নয় রীতিমতো ভিডিও পোস্ট করেছেন এই কাজ করার আগে। তার নাম বিপিন যাদব। পেশায় তিনি স্কুলশিক্ষক, তার পরিবারের দাবি, একদিকে কাজের তুমুল চাপ অন্যদিকে প্রশাসনের কর্তারাও তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করছিলেন। মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা ভিডিয়োয় সেটাই বলেছিলেন ওই বিএলও। SDM, BDO এবং লেখপালদের এই ক্রমাগত চাপেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সকলের নজর এড়িয়ে বাড়িতেই বিষপান করেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল বিপিনকে। দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। কিন্তু তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি দেখে সেখানকার চিকিৎসকেরা গোন্ডা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করে দেন। প্রশাসনের সহায়তার দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়। পরে মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিপিনকে নিয়ে যাওয়া হয় লখনউয়ের কেজিএমইউ ট্রমা সেন্টারে। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি করানোর আগেই তাঁর জীবন চলে যায় বলে জানান চিকিৎসকেরা। তার ওই ভিডিও বর্তমানে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিয়োটিতে বিপিন কুমার স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের চাপেই তিনি বিষ পান করেছেন। যদিও আর প্লাস ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি। তবে এই ভিডিয়ো ফাঁস হয়ে যারপরনাই অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা প্রশাসন। যদিও সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।  তাদের দাবি, কোনরকম চাপ দেওয়া হয়নি ওই শিক্ষককে।

স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে বিএলওর এই পদক্ষেপের নেপথ্যে পারিবারিক কারণ থাকতে পারে পাল্টা মৃত বিএলওর স্ত্রীর ব্যখ্যা, ভিডিয়ো তো মিথ্যে নয়! তাতে এসআইআরের কাজ নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের হয়রানির কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর স্বামী। এ-ও জানিয়েছেন, এসডিএম এবং বিডিও কী খারাপ ব্যবহার করেছেন তাঁর সঙ্গে। বিপিনের স্ত্রীয়ের দাবি, কাজের চাপে গত এক সপ্তাহ মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন স্বামী। এই দুই ঘটনা কিন্তু আবার দেখিয়ে দিল বিজেপি শাসিত রাজ্যের ঠিক কি হাল! একদিকে এই রাজ্যে যখন বিএলওর প্রাণহানি ঘটছে তখন পাশে দাড়াচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যদিকে যোগীরাজ্য এর দায়ই স্বীকার করছে না! বিএলও এবং তাদের পরিবার যাবেন কোথায়? উঠছে প্রশ্ন