দায়িত্ব ছাড়তেই শোকজ?

বিশ্বজিত নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ আবার শোকজ! এবার বারুইপুর পূর্বের দুই বিএলও-কে শোকজের ঘটনা নিয়ে চাপানউতোর। বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার মধ্যেই রয়েছে হাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েত। ওই পঞ্চায়েতের মধ্যেই থাকা ৯৪ নম্বর বুথে ঘটেছে এই ঘটনা। সূত্রের খবর, আগে এই বুথে বিএলও হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সোমা সেন নামে এক অঙ্গনওয়ারি কর্মীকে। এদিকে তিনি আবার এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। এমনকি স্থানীয় রামনগর দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। কিন্তু তাঁর কাঁধে কীভাবে বিএলও-র দায়িত্ব এল জোরালো হচ্চে সেই প্রশ্ন। অভিযোগ জমা পড়তেই তৎপর প্রশাসন। এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ এই এলাকায় শুধুমাত্র তৃণমূলেরই বিএলএ ২ কাজ করতে পেরেছেন। বিরোধী শিবিরের কেউ কাজ করতে পারেনি। গোটা বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নজরে আসতেই নেওয়া হয় কড়া পদক্ষেপ। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর চলছে। হতবাক এলাকার লোকজনও। সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরাও। এখন শোকজে ওই বিএলও-রা কী উত্তর দেন সেদিকেই নজর সকলের।

তবে উত্তর দিতে হবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। শোকজ লেটার গিয়েছে এলাকার ইআরও ও এইআরও-দের কাছেও। এই সময়সীমার মধ্যে উত্তর দিতে হবে তাঁদেরও। সূত্রের খবর, আগের বিএলও-র রাজনৈতিক যোগ নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই তড়িঘড়ি দেবী হালদার নামে আরও এক অঙ্গনওয়ারি কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু দেখা যায় দেবী হালদার শারীরিকভাবে অসুস্থ। ফলে তিনি দায়িত্ব পেলেও কোনও কাজ করে উঠতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে তাঁরই পরিবারের এক সদস্য তাঁর কাজ করতে থাকেন। তিনি আবার ৯৬ নম্বর বুথের বিএলও-ও। ফলে তা নিয়েও বাড়তে থাকে চাপানউতোর। এখন শোকজ করা হয়েছে সোমা সেন ও দেবী হালদারকে। এসআইআর-এর প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু এখনও বিএলও-দের কেন্দ্র করে বিতর্ক কিন্তু পিছু ছাড়ছে না। এবার এমন একটি খবর সামনে এলে, যে অসুস্থ বিএলও-র হয়ে ‘প্রক্সি’ দিচ্ছেন তাঁরই আত্মীয়। অন্য বুথের বিএলও কাজ করছেন আরও এক বুথে। এরকমই ছবি ধরা পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের হাড়দহের ৯৪ নম্বর বুথে।

কীভাবে একজন বিএলও-র কাজ অন্য বুথের বিএলও করছেন, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯৪ নম্বর বুথে বিএলও-র তালিকায় নাম জ্বলজ্বল করছে এক তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যার নাম। সোমা সেন নামের ওই বিএলও তিনি স্থানীয় রামনগর দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা। নির্বাচন কমিশনে তাঁকে নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ায় হাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েত ও বারুইপুর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী দেবী হালদারকে তড়িঘড়ি চার ডিসেম্বর ৯৪ নম্বর বুথের বিএলও হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর যাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তিনি বিএলও দায়িত্ব থেকে ইতিমধ্যেই অব্যাহতি পাওয়ার জন্য চিঠিও দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অন্য চিত্র। দেবী হালদারের পরিবর্তে কাজ করছেন তাঁরই আত্মীয় সম্পর্কে জা ৯৬ নম্বর বুথের বিএলও দায়িত্বপ্রাপ্ত রমা হালদার। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে যে একজন বি এল ও কাজ অন্য বিএলও করতে পারেন কিনা? সেই সঙ্গে বারুইপুর ব্লক প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রশ্নের মুখে। যদিও যাকে ঘিরে এতো বিতর্ক সেই তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা সোমা সেন ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চাননি। অভিযুক্ত বিএলও রমা হালদার বলেন, “৯৪ পার্টের যিনি ছিলেন, সোমা সেন, তাঁর নামে একটা অভিযোগ এসেছিল, তখন ওপর থেকে বলা হল, দেবী হালদারের নামে নিয়োগপত্র দিয়ে কাজটা সম্পন্ন করা হোক। আমাকেও বলা হয়েছিল। আসলে দেবী অসুস্থ, তাই আমি তাঁর হয়ে কাজ করেছি।” দেবী হালদার নিজেও স্বীকার করছেন, “আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল, কিন্তু আমি কাজ করিনি। আমি অসুস্থ, রমা আমার জা হন।”