সোমবার রাত থেকেই নিখোঁজ হয়েছিলেন দুই তরুণ তরুণী। মঙ্গলবার আনন্দপুরের খাল থেকে উদ্ধার হল দুজনেরই দেহ। কি কারণে এই মৃত্যু? বাড়ছে রহস্য।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- সোমবার স্কুটার চালাতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন রণিতা বৈদ্য নামে ২৩ বছরের ওই তরুণী। খোঁজ মিলছিল না প্রশিক্ষক রোহিত আগরওয়ালেরও। মঙ্গলবার পুলিশ কুকুর দিয়ে আনন্দপুর এলাকায় তল্লাশি চালায়। এর পরে খালে ডুবুরি নামানো হয়। শেষে উদ্ধার হয় রোহিত এবং রণিতার দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, যুবকের পকেট থেকে মিলেছে একটি চাবি। চাবিটি তরুণীর স্কুটারের বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ অজ্ঞাতপরিচয় এক জন ফোন করেন আনন্দপুর থানায়। তিনি জানান, নোনাডাঙা সেতু থেকে এক তরুণ এবং এক তরুণী নোনাডাঙা খালে ঝাঁপ দিয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, রণিতা আনন্দপুরের উত্তর পঞ্চান্নগ্রামের বাসিন্দা। মাস পাঁচেক আগেই স্কুটি কিনেছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, রোহিত আগরওয়াল নামে এক বন্ধুর কাছে স্কুটি চালানো শিখছিলেন রণিতা। সোমবারও স্কুটি চালানোর প্রশিক্ষণ নিতেই বেরিয়েছিলেন ওই যুবতী কিন্তু তারপর ঠিক কি এমন ঘটল দুজনের মধ্যে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন সোমবার বিকালে ওই অঞ্চলে স্কুটার শিখতে যাওয়া দুই তরুণ, তরুণীকে তাঁরা দেখেছিলেন। কেউ কেউ জানান, দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। এবং সেই সময় তরুণী স্কুটি থেকে নেমে হেঁটে চলে যান ওই খালের দিকে এবং তারপর রোহিতও স্কুটি পার্ক করে এগিয়ে যান তরুণীর দিকে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই জলে কিছু পড়ার শব্দ শোনা যায়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছিল এই রোহিতই হয়ত তরুণীকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছেন জলে কিন্তু প্রথমে সেই রোহিতের দেহই উদ্ধার হয়।

ওই তরুনী গত ৬ মাস আগে একটি স্কুটি কেনেন। ছেলেটির সঙ্গে মাঝে মাঝেই ওই এলাকায় স্কুটি চালানো শিখতে যেতেন। গত বছর শেষ হয়েছিল তাঁর পড়াশোনার পাঠ। তারপর থেকে বাড়িতে থাকতেন। অন্যদিকে রোহিত অনলাইন ডেলিভারির কাজ করতেন। দু’জনেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। বন্ধুবান্ধব মহল সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন থেকেই তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হচ্ছিল। ঝগড়াও হচ্ছিল। এখন সেই টানাপোড়েনের জেরে এই ঘটনা কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।