নির্বাচন বয়কটের পথে আওয়ামী লিগ?

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। দীর্ঘ ১৫-১৬ মাসের জল্পনা শেষে প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লীগ কি এই নির্বাচনে লড়বে? বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলটির কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সরাসরি অংশ নেওয়া অসম্ভব হলেও, শেখ হাসিনার দল এক কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করছেন, দেশের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তাদের দিকে।

তাই তারা ‘গণতন্ত্রবিমুখ’ তকমা এড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বয়কটের কথা বলছে না। পরিবর্তে তারা ‘নির্বাচন প্রতিহত’ করার কৌশল নিয়েছে। ভারতে আশ্রয় নেওয়া শীর্ষ নেতাদের মতে, অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অবৈধ। আওয়ামী লিগের নেতা পঙ্কজ দেবনাথের মতো নেতারা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা নিয়মিত বৈঠক করে তাদের সাহস দিচ্ছেন। দলের মূল লক্ষ্য হল সমর্থকদের ভোটদানে বিরত রাখা। এতে ভোট পড়ার হার কমলে আন্তর্জাতিক মহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সহজ হবে।

ইউনূস সরকার কর্তৃক ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট-২’ ঘোষণা আওয়ামী লীগকে আরও বেকায়দায় ফেলেছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগ কি না, তা নিয়ে ধন্দ থাকলেও দলটির ওপর চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে তারা কি আওয়ামী লীগের শূন্যস্থানের ভোটের ভাগ চায়? সামগ্রিকভাবে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে সরাসরি না থাকলেও সমর্থকদের মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে এই নির্বাচনের বৈধতা খতিয়ে দেখার হাতিয়ার প্রস্তুত রাখছে।