তেলেবেগুনে জ্বলছে পাকিস্তান। এবার ভারতের থেকে ব্রাহ্মোস কিনতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ!

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ব্রাহ্মোস মিসাইল চুক্তি নিয়ে অধিকাংশ শর্তেই সহমত প্রকাশ করেছে দুই দেশ। এই ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে বছর শেষে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
এই ব্রাহ্মোসই অপারেশন সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানের শিরদাঁড়া ভেঙে দিয়েছিল। যার গর্জনে শত্রুর ঘুম উড়ে যায়। সেই ব্রাহ্মোস এবার কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ মালয়েশিয়া। এই খবর পেয়ে পাকিস্তান যে তেলে বেগুনে জ্বলছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হচ্ছে। তার জেরেই বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে শীঘ্রই ভারতের থেকে ঘাতক সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ব্রাহ্মোস কিনতে চলেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফরি স্যামসুদ্দিনকে একটি ব্রাহ্মোস মিসাইলের প্রতিকৃতি দিয়েছেন। ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ব্রাহ্মোস মিসাইল নিয়ে চুক্তিতে শেষ সিলমোহর পড়ে গিয়েছে। এবার শুধু ঘোষণার অপেক্ষা। সূত্রের খবর, ইন্দোনেশিয়ার টিমকে অপারেশন সিঁদুরে ব্রাহ্মোস মিসাইলের ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ভারতের থেকে ব্রাহ্মোস কিনছে, তা প্রতিবেশী দেশের ঘুম উড়িয়ে দিতে চলেছে, এটাই স্বাভাবিক।
জানা যাচ্ছে, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফরি সামসুদ্দিনের নেতৃত্বে এক প্রবীণ প্রতিনিধিদল দিল্লিতে ব্রাহ্মোস উৎপাদন ইউনিট পরিদর্শন করেছে। মিসাইল তৈরির প্রক্রিয়া, তার ক্ষমতা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যের বিবরণ দেওয়া হয় ওই ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিদলকে। সূত্রের খবর, ইন্দোনেশিয়া ব্রাহ্মোসের স্থল, নৌসেনা ও বিমান বাহিনীর সংস্করণ পেতে চায়। কিন্তু বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার দল নৌ সংস্করণের উপর বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে। সুতরাং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সবচেয়ে প্রথমে ব্রাহ্মোসের নৌসেনা সংস্করণটাই কিনতে পারে ইন্দোনেশিয়া। এছাড়া তারা যুদ্ধবিমান সুখোই-৩০-এর জন্য ব্রাহ্মোস কেনার চিন্তাভাবনাও করছে।
ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ব্রাহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের জন্য একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রায় হয়েই এসেছে। সূত্রের খবর, অর্থিক দিক থেকেও দুই দেশের চুক্তি প্রায় শেষের দিকে। তৃতীয় ভারত ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা স্তরের বৈঠকে এই আলোচনা হয়েছে। সেই বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই চুক্তি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ফিলিপিন্সের পর ইন্দোনেশিয়া এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ হয়ে যাবে, যারা ব্রাহ্মোস মিসাইল কিনেছে।
সূত্রের খবর, ফিলিপিন্সের মতো ইন্দোনেশিয়াও চিনের বিরুদ্ধে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই আবহে দক্ষিণ চিন সাগরে যখন তাদের যুদ্ধজাহাজে ব্রাহ্মোস সংযুক্ত করা হবে, তখন চিন তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করতে গেলে একাধিকবার ভাবতে বাধ্য হবে। কারণ চিন এটা খুব ভালোভাবে জানে যে, ব্রাহ্মোসের মার কখনও ফাঁকি দেয় না। কোনও যুদ্ধজাহাজে ব্রাহ্মোস দিয়ে হামলা চালানো হয়, ধ্বংস হওয়াটা স্বাভাবিক। এতে ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রের পাশাপাশি আকাশপথের নিরাপত্তাও মজবুত করা যাবে।