টানা আটবার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ২০২৬ সালে নবমবার বাজেট উপস্থাপন করবেন তিনি।

সূচনা পল্যে, সাংবাদিক: মোদী সরকারের পক্ষ থেকে আবারও দেশের বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে উপস্থাপিত হবে কেন্দ্রীয় বাজেট। তার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। রেলপথ থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান থেকে স্টার্টআপ- দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষের চোখ এই বাজেটের দিকে। মধ্যবিত্ত থেকে শিল্পপতি, কৃষক থেকে চাকরিপ্রার্থী- সবার প্রত্যাশা একটাই, এবার কী বড় ঘোষণা আসতে চলেছে?
কিন্তু এবারের বাজেট শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ইতিহাসের পাতায় আরও একবার নাম লেখাতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।
কেন এই বাজেট বিশেষ?
এবারের বাজেট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, ডিজিটাল অর্থনীতি, গ্রামীণ উন্নয়ন- এই সব বিষয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে, সামনে রয়েছে একাধিক রাজ্য নির্বাচন এবং জাতীয় রাজনীতির বড় সমীকরণ।
সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ- অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বজায় রাখা, বিনিয়োগ বাড়ানো, পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের ব্যয়বহুল জীবনে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া।

নবমবার বাজেট পেশ
এদিকে, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন টানা নবমবারের মতো লোকসভায় বাজেট পেশ করতে চলেছেন। ভারতীয় ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। একজন মহিলা অর্থমন্ত্রী হিসেবে শুধু ভারতেই নয়, গোটা বিশ্বেই তিনি সর্বাধিক সংখ্যক বাজেট পেশ করার রেকর্ড গড়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনি টানা আটবার বাজেট পেশ করেছেন। ২০২৬ সালে এসে নবমবার বাজেট উপস্থাপন করে তিনি নিজের এই রেকর্ডকে আরও মজবুত করবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারেও এই ধারাবাহিকতা সরকারের আর্থিক নীতিতে স্থিতিশীলতার বার্তা দেয়।
কোন কোন বাজেট তিনি ইতিমধ্যেই পেশ করেছেন?
নির্মলা সীতারমন প্রথম বাজেট পেশ করেন ২০১৯ সালে। এরপর করোনা মহামারির কঠিন সময়েও তিনি একের পর এক বাজেট পেশ করেছেন। করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, আত্মনির্ভর ভারত, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, অবকাঠামো উন্নয়ন- এই সব বড় নীতিগত পরিবর্তনের সাক্ষী ছিল তাঁর বাজেটগুলো। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, রেল ও হাইওয়ে প্রকল্প, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে ছাড় এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসার তাঁর বাজেটের বড় দিক হিসেবে ধরা হয়।
দীর্ঘতম বাজেট বক্তৃতার বিশ্বরেকর্ড
নির্মলা সীতারমনের ঝুলিতে রয়েছে আরও এক বিশ্বরেকর্ড। ২০২০-২১ অর্থবর্ষের বাজেট বক্তৃতায় তিনি টানা ২ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ভাষণ দেন। যা ভারতীয় সংসদের ইতিহাসে দীর্ঘতম বাজেট বক্তৃতা হিসেবে নথিভুক্ত। এই বক্তৃতার মাধ্যমেই তিনি নিজের আগের রেকর্ড ভেঙেছিলেন। ২০১৯-২০ বাজেটে তাঁর বক্তৃতার সময় ছিল ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তিনি নিজেরই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান।

এবার কি আবার রেকর্ড ভাঙবেন?
এবার প্রশ্ন উঠছে- ২০২৬ সালের বাজেটে কি আবার নিজের রেকর্ড ভাঙতে পারেন অর্থমন্ত্রী? রাজনৈতিক মহলের মতে, বাজেটে যদি একাধিক বড় সংস্কার, নতুন প্রকল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা থাকে, তাহলে বক্তৃতার সময়সীমাও বাড়তে পারে। যদি তিনি ফের দীর্ঘ বক্তৃতা দেন, তাহলে দ্বিতীয়বারের মতো নিজের রেকর্ড ভাঙার নজির গড়বেন নির্মলা সীতারমন।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কী?
এই বাজেট থেকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক।
মধ্যবিত্ত চায় করছাড় ও মূল্যবৃদ্ধিতে স্বস্তি
যুবসমাজ চায় নতুন চাকরি ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প
কৃষক চায় ন্যূনতম সহায়তা ও আধুনিক কৃষি পরিকাঠামো
শিল্পপতিরা চায় বিনিয়োগ-বান্ধব নীতি ও ট্যাক্স রিফর্ম
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে চাই আরও বরাদ্দ
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাজেট ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। ১ ফেব্রুয়ারির বাজেট শুধু আর্থিক দলিল নয়- এটি দেশের ভবিষ্যতের রূপরেখা। নির্মলা সীতারমনের নবম বাজেট একদিকে যেমন নতুন রেকর্ডের সাক্ষী হতে চলেছে, তেমনই দেশের কোটি কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে এই বাজেটে। এবার নজর থাকবে- সরকার কতটা ভারসাম্য রাখতে পারে উন্নয়ন, মূল্যনিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনেও কতটা পরিবর্তন আসে, সেটাই দেখার।