লিপস অ্যান্ড বাউন্সে বুলডোজার, অভিষেকের হুঁশিয়ারি!

অভিষেকের অফিসে বুলডোজার, উঠল ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান!

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আমতলায় তৃণমূল কংগ্রেস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে অভিষেকের ৫তলা সাংসদ কার্যালয়। স্থানীয়দের অভিযোগ বাড়িটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছে। বুলডোজার চলতেই স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুললেন।

অভিষেকের বেআইনি অফিসে বুলডোজার

এলাকায় ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোটা চত্বর নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই অফিসটি বন্ধ ছিল। সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে একটি নোটিস পাঠিয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেলা পরিষদে কোনও প্রতিনিধি হাজিরা দেননি।

এরপরেই কর্তৃপক্ষ সরকারি নিয়ম মেনে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করার পদক্ষেপ নেয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রচুর মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এর আগে গত ৩ জুলাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (CID) তাঁর অফিসের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে ভয় দেখাচ্ছে ও হেনস্থা করছে। তাঁর দাবি ছিল, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে অভিষেক অভিযোগ করেন, তাঁর অফিসের সঙ্গে যুক্ত বা পরিচিত প্রায় ২৫ জনকে কোনও যথাযথ নোটিস ছাড়াই এবং আইনি সুরক্ষা লঙ্ঘন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো বা তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানান, “যারা পার্টি অফিস ভাঙা হচ্ছে বলে আনন্দে মেতেছেন, তাদের বলি ১৫ তারিখ শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। সেখানেও আমাদের প্রতিনিধিরা গিয়েছিলেন। কিসের প্রেক্ষিতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তার কপি চাওয়া হলেও জেলা প্রশাসন তা দিতে পারেনি। দুদিনের মধ্যে ১তলা দোতলা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল। শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিক নয়, বিজেপি কর্মীরা পার্টি অফিসে তাণ্ডব চালিয়েছে। সমস্ত ভিডিও নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবো। সুপ্রিমকোর্ট অবধি যাবো। “

অভিষেকের হুঁশিয়ারি, “ভিডিওতে যাদের দেখা গিয়েছে, তারা কেউ বাঁচবে না। আইনের হাত অনেক বড়। যে ধারায় যে আইনে আমাদের পার্টি অফিস ভাঙা হচ্ছে, সরকার পাল্টে গেলে ওই আইনের একই ধারাতেই আবার ওদের অফিস ভাঙবো।”

এখানেই শেষ নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংযোজন, “যারা আমার জন্য পার্টি ছেড়েছেন তারা যদি বলেন, এই পরাজয়ের জন্য আমি দায়ী হই তাহলে এর আগে জেতার জন্য দায়ী ছিলাম। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন তারা দলে ফিরে আসুন। যদি আসতে পারেন, তাহলে এক ঘণ্টার মধ্যে আমি ইস্তফা দিয়ে দেব। “