মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা কোনওরকম বেআইনি নির্মাণ রাখা হবে না রাজ্যে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের বুলডোজ়ার নীতি গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।

শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক : বেআইনি নির্মাণে চলছে বুলডোজ়ার। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বেআইনি নির্মাণগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা কোনওরকম বেআইনি নির্মাণ রাখা হবে না রাজ্যে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের বুলডোজ়ার নীতি গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এবার বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আরও কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। বেআইনি নির্মাণে জিরো টলারেন্স-এর বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
সীমান্তে সুরক্ষা জোরদার করতে তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার। স্মার্ট বর্ডারের ঘোষণা আগেই করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতেও সফর শুরু করেছেন তিনি। মোট চার রাজ্যের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে আসছেন ১৫ জুন। তার আগে রাজস্থানের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তারপর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা , রাজ্য সরকারের উচ্চ-পদস্থ আধিকারিক এবং পাঁচটি সীমান্তবর্তী জেলা যেমন বিকানের, জয়সলমের, বারমের, শ্রী গঙ্গানগর ও ফালোদির জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পরই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া বার্তা দেন অমিত শাহ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সব অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ। এছাড়া প্রতিটি সীমান্ত জেলার জন্য একটি ৩৬০ ডিগ্রি নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুপ্রবেশ, মাদক চোরাচালান, বেআইনি দখল ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলা করার জন্যৃ বিএসএফ, এনসিবি এবং রাজ্য সরকারকে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা শাসকদের দায়িত্ব আরও বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সমস্ত ব্যাঙ্কের লেনদেনে সব আইন ও আর্থিক নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না, বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে যাচাই করা,অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা, মিউল অ্যাকাউন্ট ও শেল কোম্পানির উপর নজরদারি, ভুয়ো আধার কার্ড শনাক্ত করা এবং পাচার রোধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে,ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি সীমান্তবর্তী জেলার জমি বিএসএফকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, প্রথম দফায় ১৪২.৭৯ একর জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানানো হয়েছে, এর মধ্যে কোচবিহারে ২২.৯২৫ একর, জলপাইগুড়িতে ৩৫.১৬৫ একর, দার্জিলিং-এ ৮.৮১৫ একর, উত্তর দিনাজপুরে ২.৮৪ একর, দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭ একর জমি, মালদহে ১০.৯ একর, মুর্শিদাবাদে ৩৮.৮০৫ একর, নদিয়ায় ০.৫৫ একর এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ২.৬ একর জমি বিএসএফ-কে দেওয়া হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহারের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সীমান্ত বরাবর বহু অংশ এখনও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২২০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে এখনও কয়েকশো কিলোমিটার এলাকায় পূর্ণাঙ্গ বেড়া নির্মাণ হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, জাল নোট পাচার এবং অন্যান্য অপরাধ রুখতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলেও দাবি করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে আরও জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এদিকে গদিতে বসেই শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করছেন। এই আবহে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সেই হোল্ডিং সেন্টারে সন্দেহভাজনদের আটক করে ৩০ দিন রাখা যাবে। সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নন, এমন বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করার ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই সব আটক হওয়া অবৈধবাসীদের সরাসরি তুলে দেওয়া হবে বিএসএফের হাতে। সরকারের এই অবস্থানের ফলে আগেভাগেই শ’য়ে শ’য়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিজেরাই হাকিমপুর সীমান্তে গিয়ে ভিড় করেছে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য।