একদিকে যখন বুলডোজারের আওয়াজ হচ্ছে, তেমনই আরেকদিকে উচ্ছ্বাসে মেতেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিপস অ্যান্ড বাউন্সে বুলডোজার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় শনিবার সকালে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বন্ধ থাকা কার্যালয় ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় মোতায়েন হয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই অফিসটি বন্ধ ছিল। এটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর কার্যালয় হিসেবে পরিচিত ছিল এবং সংস্থাটির মালিকানা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা-মায়ের নামে ছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। অবৈধ নির্মাণ ঘোষণার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন নোটিশ জারি করলেও নির্ধারিত সময়ে জেলা পরিষদে কেউ হাজিরা দেননি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। এরপর সরকারি নিয়ম মেনে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রেখে গোটা এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
একদিকে যখন বুলডোজারের আওয়াজ হচ্ছে, তেমনই আরেকদিকে উচ্ছ্বাসে মেতেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানাচ্ছেন সবসময়ে ভয়ের পরিবেশ থাকতো এলাকায়। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, অলিগলিগুলোও পুলিশ মোতায়েন করে বন্ধ রাখা হত। সেখান দিয়ে নিত্যযাত্রীদের যাওয়া আসা একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পার্টি অফিসে এলেই এই ছবিটাই বজায় থাকতো। এর প্রতিবাদ করার সাহস কারোর ছিল না বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ কেউ বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হত। এই অফিসে এসেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করতেন স্বয়ং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, “এখানে ক্রিমিনালের জন্ম হত। এখানে মেয়েদের নিয়ে চক্রান্ত হত।” বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানাচ্ছেন, “এই অবৈধ সাংসদ অফিসের বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশে এই জমিকে ইডি বাজেয়াপ্ত করেছে। এবার এর অবৈধ কাঠামো ভাঙা হল। সবশেষে ভাইপোকে গারদে পোরা হবে।”