২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় অস্বস্তিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া রক্ষাকবচ ফিরিয়ে নিল কলকাতা হাইকোর্ট।
মাম্পি রায়, সাংবাদিক: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় অস্বস্তিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া রক্ষাকবচ ফিরিয়ে নিল কলকাতা হাইকোর্ট।
২০২২ সালে শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ। ওই রক্ষাকবচের ফলে এতদিন বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে আদালতের অনুমতি নিতে হত। ২০২৫ সালে এসে সেই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। এর ফলে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর বা মামলা করতে গেলে আর আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুক্রবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫টি এফআইআর বাতিল করে দিয়েছে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চ।

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে শুভেন্দুকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ। ওইসময় রাজ্য পুলিশের দায়ের করা ২৬টি এফআইআরে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে এফআইআর করতে গেলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে বলেও নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। তারপর থেকে বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে নানারকমের অভিযোগ উঠলেও আদালতের কড়াকড়ির কারণে আর এফআইআর দায়ের করতে পারেননি কেউ।
সম্প্রতি ওই রক্ষাকবচের বিরুদ্ধে আদালতে যায় রাজ্য। শুনানির পর শুক্রবার রায়দান পর্ব ছিল। এদিন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত জানিয়ে দেন, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে রক্ষাকবচের যে রায় ছিল, তা ছিল কেবল অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ। কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশই অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। তাই ওই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিল হাইকোর্ট। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫টি মামলা খারিজ করেছে আদালত। এছাড়া মানিকতলা-সহ মোট পাঁচটি মামলায় সিবিআই এবং রাজ্যের যুগ্ম এসআইটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই সিটে রাজ্য পুলিশের তরফে যতজন প্রতিনিধি থাকবেন, সিবিআইয়ের তরফেও ততজন প্রতিনিধি থাকবেন।

২৬-এর ভোটের আগে হাইকোর্টের এই রায়ে যথেষ্ট সমস্যায় পড়লেন শুভেন্দু অধিকারী সহ বিরোধী নেতৃত্বরা তা বলাই বাহুল্য। এর আগেও শুভেন্দুকে রক্ষাকবচের নির্দেশ দেওয়ায় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিধানসভা ভোটের আগে হাইকোর্টের এই রায় তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিল, তা বললেও ভুল হবে না। এদিকে রক্ষাকবচ উঠে যাওয়ায় ব্যাপক অস্বস্তিতে পড়লেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

হাইকোর্টের রায়ের পরই শুভেন্দুকে একহাত নিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “এই রায় আখেরে তৃণমূল কংগ্রেস বা রাজ্য সরকারের বক্তব্যকেই মান্যতা দিল হাইকোর্ট। যে এভাবে একটা চিরকালীন রক্ষাকবচ দেওয়া যায় না। যার বলে বলিয়ান হয়ে বিরোধী দলনেতা বহু প্ররোচনামূলক কথা বলেছেন,কুৎসা করেছেন, আপত্তিকর কাজ করেছেন, কিন্তু আইন অনুযায়ী কিছু করা যায়নি। সুতরাং মোদ্দা কথা হল, যে কোনও ব্যক্তি কিছু করলেও এফআইআর করা যাবে না, কোর্টে গিয়ে মান্থা সাহেবের অনুমতি নিতে হবে। এটা ঠিক নয়। এর জন্য আরও বেশি কুকর্ম করার সুযোগ পাচ্ছিলেন শুভেন্দু। “