‘ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ নয়’

আপাতত বিরোধী দলনেতার পদেই বহাল থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জুলাইয়ে ফের শুনানি কলকাতা হাইকোর্টে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত স্পিকার নিয়েছিলেন, তাতে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেন। ফলে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল থাকছে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে তাদের অবস্থান জানাতে হবে। তার পর দু’সপ্তাহের মধ্যে জবাবি হলফনামা জমা দেওয়া যাবে। আগামী ২৮ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।

বিধানসভার অন্দরে চলতে থাকা তৃণমূলের ভাঙন ঘিরে এই মামলার গুরুত্ব যথেষ্ট। ইতিমধ্যেই দলের ৫৮ জন বিধায়ক পৃথক গোষ্ঠী গঠন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সেই গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে ঋতব্রতকে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। তাঁর সেই সিদ্ধান্তকেই আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।

রাজ্যের রাজনীতিতে সমান্তরাল ভাবে জল্পনা বাড়িয়েছে লোকসভার পরিস্থিতিও। দাবি করা হয়েছে, তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ত্রিপুরাভিত্তিক ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন। সেই সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছেও পৃথক আসন বিন্যাসের আবেদন জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

হাই কোর্টের বৃহস্পতিবারের নির্দেশের পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আদালত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি। তবে মামলাটি গ্রহণ করেছে। হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসে চূড়ান্ত শুনানি হবে।’’

এদিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন ঋতব্রত। মঙ্গলবার তিনি বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, বিধায়কদের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে বাইরে নানা দাবি ও পাল্টা দাবি চলছে। সেই পরিস্থিতিতে স্পিকার যদি প্রয়োজন মনে করেন, তবে ফ্লোর টেস্ট হওয়া উচিত।

ঋতব্রতের কথায়, ‘‘বাইরে নানা মন্তব্য করা হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমেও তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্পিকার যদি মনে করেন ফ্লোর টেস্ট প্রয়োজন, তা হলে হোক। এক বার ফ্লোর টেস্ট হয়ে গেলে সমস্ত জল্পনা, বিতর্ক এবং পরস্পরবিরোধী দাবি-দাওয়ার অবসান ঘটবে।’’

রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, তখন হাই কোর্টের এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও বিধানসভা পর্যবেক্ষকদের।