হাইকোর্টের রায়কে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে প্রতিক্রিয়া শুভেন্দু অধিকারীর। নিজের বাবা-ভাইয়ের বেলায় তো তার দলত্যাগ বিরোধী আইনের কথা মনে পড়ে না। পাল্টা তোপ অরূপ চক্রবর্তীর।
ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিতে মুকুলকে রাখার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়। মুকুলকে ওই পদে বসানো নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়ে এই নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি দেবাংসু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চের।
দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়কের পদ খারিজের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক। বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্টের এই রায়কে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, “কেউ দলত্যাগ করলে পদ থেকেও ইস্তফা দিন। আমিও তাই করেছি।“
পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী জানান, “মুকুলদা অসুস্থ। তাঁর সুস্থতা কামনা করি। শুভেন্দুর রাজনৈতিক দ্বিচারিতা সবার সামনে চলে এসেছে। নিজের বাবা-ভাইয়ের বেলায় তো তার দলত্যাগ বিরোধী আইনের কথা মনে পড়ে না।”

সালটা ২০১৭। ওই বছরেই নভেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক মুকুল রায়।
কয়েকবছর পর তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু তৃণমূল থেকে বিজেপিতে চলে যান।
২০২০ সালে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান মুকুল রায়। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে প্রায় প্রচার ছাড়াই কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন মুকুল।
বিধানসভা নির্বাচন জয়ের কিছু পরে তিনি ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যান। ঘরের ছেড়ে ঘিরে ফিরেছে বলে প্রচার করা হয় তৃণমূলের তরফে।
২০২১ সালের ১১ জুন তৃণমূল ভবনে ফের দলে যোগদান করানো হয় মুকুলকে। তাঁর গলায় তৃণমূলের উত্তরীয় পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বরণ করে নেওয়া হয়।

মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরলেও, তাঁর বিধায়কপদ থেকে পদত্যাগ করেননি। যে বিধায়ক পদ তিনি বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়াই করে হাসিল করেছিলেন। মুকুল রায়ের পদ খারিজের দাবিতে স্পিকারের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। যদিও বিধানসভায় মুকুল রায়ের আইনজীবীরা দাবি করে এসেছেন, তিনি বিজেপিরই বিধায়ক। কখনও দলবদল করেননি। এরইমধ্যে আবার পিএসির চেয়ারম্যান পদেও বসানো হয় মুকুল রায়কে। তার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করেছিল বিজেপি। কিন্তু তাতে কান দেয়নি শাসকদল। বিজেপির অভিযোগ খারিজ করে মুকুলের বিধায়ক পদ বহাল রাখেন খোদ স্পিকার। প্রতিবাদে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়। বৃহস্পতিবার সেই মামলাটি শুনে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশে কোনও বিধায়কের পদ যাওয়াটা কার্যত নজিরবিহীন ঘটনা, এককথায় মেনে নিচ্ছেন কমবেশি সকল আইনজীবী। তবে হাইকোর্টের এই রায় এমন পরিস্থিতিতে এল তখন মুকুল রায় একেবারে শয্যাশায়ী। হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন মুকুল রায়।

রোগের ভারে কার্যত হেলে পড়েছেন। এমনই একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ লিখেছেন, “কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও? আমি শুনতে পাচ্ছি মুকুলদা। তোমার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মনেপ্রাণে চাই তুমি সচেতন মনে কালের যাত্রার ধ্বনি অনুভব করো। অচেতন থাকলে এ ধ্বনির মানে বুঝবে কী করে?”