১ জুন ডিপকে ঘোষনা করেছিলেন , প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হবেন।

শ্রেয়সী বল, সাংবাদিক : ককরোচ জনতা পার্টির ফাউন্ডার অভিজিৎ ডিপকে ৬ ই জুন শনিবার ভারতে আসছেন। ওনার সমর্থনে একজন বড় অভিনেতারও আসার সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে।এছাড়াও সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক ঘোষণা করেছেন ওই দিন অভিজিৎ-র সঙ্গে যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন। তবে তিনি একটি শর্তও রেখেছেন। ওয়াংচুক জানিয়েছেন, তার শর্ত মানা হলেই এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত হবেন।
ওয়াংচুক স্পষ্ট করেছেন যদি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ হয় তবে তিনি এই কর্মসূচিতে সামিল হবেন। বলপ্রয়োগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে সেটা সিজেপি তরফে নয় পুলিশের তরফে হবে।আপনাদের মনে করিয়ে দিই,১ জুন ডিপকে ঘোষনা করেছিলেন , প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হবেন। ভিডিও বানিয়ে যন্তরমন্তরে সবাইকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হওয়ার আবেদনও জানান ডিপকে।
এই প্রতিবাদের প্রধান দাবি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা।লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাক্ষেত্রে বহু দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসছে। এই পরিস্থিতি থেকে পড়ুয়াদের নিষ্কৃতি দিতেই শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি করা হচ্ছে জানানো হয় ককরোচ জনতা পার্টির তরফে।অভিনেতা প্রকাশ রাজও এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগদানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে তিনি পোস্ট করে লিখেছেন, “আমি ৬ তারিখ প্রতিবাদস্থলে পৌঁছনর চেষ্টা করব।যাতে ককরোচের সবচেয়ে জরুরি আন্দোলনের প্রতি আমার সমর্থন প্রদর্শন করতে পারি।যদিও একটি সিনেমার শুটিং-এর দরুন আমি অনেকটাই দুরে আছি।তবুও সেখানে পৌঁছনোর সবরকম চেষ্টা করব।সমস্ত তরুণ ককরোচদের অনুরোধ করব যন্তরমন্তরে পৌঁছনোর জন্য”।

এমনিতে বেশ কয়েকদিন ধরে ট্রেন্ডিং নিউজে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।কিন্তু আপনি যদি এদের বিষয়ে না জেনে থাকেন তাহলে বলি,এখানে ককরোচের অর্থ হল দেশের বেকার যুব সম্প্রদায় ও জেন জি। ককরোচ জনতা পার্টি শুরু হয় একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার থেকে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বেকার যুবকদের কিছু অংশকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। বেকার যুবকরা চাকরি না পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হন এবং সব বিষয়ে সমালোচনা করতে শুরু করেন। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে যুবসমাজে। পরে অবশ্য প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেন যে, তাঁর এই মন্তব্য সামগ্রিক বা বেকার যুবসমাজের উদ্দেশে ছিল না। এটি সেইসব ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে বলা হয়েছিল যারা ‘জাল ও ভুয়ো ডিগ্রি’ ব্যবহার করে আইনি পেশার মতো ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ করেছে।
তবে তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। উল্টে অভিজিৎ ডিপকে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি নামে নতুন দল গঠনের ঘোষণা করেন। এরপর এটা একটা বড় যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। যদিও এটা এখনও কোনও রাজনৈতিক দল নয়। এরপরও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এর ফলোয়ারের সংখ্যা এরই মধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। যা বিজেপির মত বড় রাজনৈতিক দলের সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার্সকে ছাপিয়ে গেছে। ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপি একটি ওয়েবসাইটও চালু করে। তবে চালুর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টিকে বর্তমানে অনেক রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ সমর্থন করা শুরু করেছে। এবার এই পার্টি ৬ জুন দিল্লিতে প্রতিবাদ করবে। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সোনাম ওয়াংচুকের পাশাপাশি অভিনেতা প্রকাশ রাজেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রতিবাদ কতটা ফলপ্রসু হবে? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।