সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হাদি হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ!

প্রকাশ্যে হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর সিসিটিভি ফুটেজ। মূল হত্যাকারীর সঙ্গে নাকি পরিচয় ছিল হাদির। হাদির টিমের অংশ হয়ে তাঁর হয়ে প্রচারেও যোগ দিয়েছিলেন ফেরার অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ। খুনের আগের রাতে বান্ধবীকে জানিয়ে গিয়েছিলেন এক বড় তথ্য।

সায়ন্তিকা বন্দ্য়োপাধ্যায়, সাংবাদিক : ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ। ছায়ানট থেকে শুরু করে সংবাদ পত্রের অফিস হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি কেউই। এমনকি হিন্দু যুবককে যেভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে তাকে জ্বালানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় তো সেই ছবি ভাইরাল। এমতাবস্থায় আরও একবার বাংলাদেশ থেকে শোনা যাচ্ছে ভারত বিদ্বেষী মন্তব্য, কিন্তু যদি হাদি হত্যার সঙ্গে ভারতকে এভাবে জড়িয়ে ফেলা হয় তাহলে এই প্রশ্নও উঠতে পারে ঠিক নির্বাচনের আবহে এত বড় ঘটনা কিভাবে ঘটল ইউনুসের দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশে? কোন ভাবে নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে যে কোন ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করতেই পারেন মহম্মদ ইউনুস। এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে হাদি হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ, গত ১২ তারিখ নামাজ সেরে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চেপে ঢাকার পুরনো পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন হাদি। সঙ্গে ছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁদের পিছনে ছিল একটি মোটরবাইক। দুপুর আড়াইটে নাগাদ বাইকে চালকের পিছনে বসে থাকা এক ব্যক্তি হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ। তার পরেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বাইক-আরোহীরা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয় হাদিকে। ঠিক তার পরের দিনই ঢাকা পুলিশ জানায়, হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল।

পুলিশের দাবি, তিনি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের নেতা। গত বছরের ১ নভেম্বর অস্ত্র-সহ ফয়সালকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। গত ২১ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্তি পান। গুলি চালানোর ঘটনায় আরও তিন জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। বাইকের পিছনে বসে গুলি চালান ফয়সাল। চালক ছিলেন আলমগীর শেখ। আলমগীর যুবলীগের সদস্য ছিলেন। হাদিকে যখন ধাওয়া করা হচ্ছিল, তখন ফয়সাল, আলমগীরের সঙ্গে ছিলেন জাকির নামে এক ব্যক্তি। তদন্তকারীরা জানান, কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনা করে হামলাটি চালানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, তাঁরা ভারতে পালিয়ে গিয়েছেন। আর এখান থেকেই যেন ইউনুস এবং তার দলবল আরও ক্ষেপে গিয়েছেন। গত ১৮ তারিখ ঢাকার রাজপথ থেকে তীব্র ভারত বিদ্বেষী স্লোগান ওঠে, তাহলে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভারতও প্রশ্ন তুলতে পারে মহম্মদ ইউনুস কেন ব্যর্থ দেশের যুবনেতাকে নিরাপত্তা দিতে! এবার জানাব হাদির হত্যাকারী সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে ঘটনার দিন ফয়সাল একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করেছিলেন। সেই গাড়ির চালককে তিনবার তিন স্থানে আসতে বলেছিলেন তিনি। প্রথমে গাড়িটিকে আসতে বলা হয়েছিল ঢাকার মৎস্য ভবনের সামনে, যে এলাকার কাছেই ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। কিন্তু জুমার নামাজের পর গাড়িটিকে আসতে বলা হয় আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজারে। সর্বশেষ ধামরাই উপজেলার কালামপুরে যেতে বলা হয় গাড়িটিকে। সেখান থেকে গাড়িটিতে উঠে ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন ফয়সল। হাদির ওপরে হামলার আগে থেকেই ফয়সাল জানতেন কত বড় ঝড় আসতে চলেছে বাংলাদেশে। গুলি চালানোর আগের রাতেই এই ফয়সাল নাকি ঢাকার বাইরের এক রিসর্টে তিনি তাঁর বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলে খবর। সূত্রের দাবি, সেখানে ফয়সাল বান্ধবীকে জানিয়েছিলেন যে, এমন কিছু ঘটতে চলেছে যা পুরো বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেবে। এখানেই শেষ নয়, শোনা যাচ্ছে হাদি নাকি আগে থেকেই চিনতেন এই ফয়সালকে। হত্যার দিন কয়েক আগে নাকি হাদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন ফয়সাল। গত ৪ ডিসেম্বর বাংলামোটরের ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে সহযোগী কবিরকে নিয়ে হাদির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ফয়সাল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ছয় মিনিটের একটি বৈঠকও হয়েছিল বলে দাবি বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের। হাদির টিমের অংশ হয়ে তাঁর হয়ে প্রচারেও যোগ দিয়েছিলেন অভিযুক্ত। অনুমান, হত্যার পরিকল্পনার জন্যই হাদির কাছাকাছি থাকতে এই পথ নেন ফয়সাল। তাহলে তো এখানে প্রশ্ন উঠবেই যে হাদিও নিশ্চয়ই জানতেন এই ফয়সাল বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের নেতা তাহলে তিনিও কি আরও কিছুটা সতর্ক হতে পারতেন না এই মানুষটাকে প্রচারের কাজে লাগানোর আগে দুবার ভাবতে? কেন তিনি এমন কাউকে কাজে লাগালেন যাকে কিছুদিন আগেই পুলিশ গ্রেফতার করেছিল এবং আবারও আঙুল কেন উঠবেনা ইউনুসের দিকে যিনি তার দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই অক্ষম! কেন প্রশ্ন উঠবে না যে বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা গেল না কেন? বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ঘটনায় কেন ভারতকে কালিমালিপ্ত করা হবে? এর আগে একাধিক ইস্যুতে ইউনুসের নোংরা চাল সামনে এসছে হতেও পারে এটাও তার এমনই কোন চাল যার দ্বারা এভাবে নতুন করে উত্তপ্ত হল ওপার বাংলা! ঘটনা প্রবাহ যেভাবে এগোচ্ছে তাতে করে এই বিষয়টা স্পষ্ট হাদির হত্যাকারীদের ধরার থেকেও এই মুহূর্তে ইউনুসের বাংলাদেশের একাংশের মূল লক্ষ্য ভারতের বিরোধিতা কারণ বিক্ষোভকারীদের ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘ভারতীয় আধিপত্য, মানি না, মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে । দেখা যাচ্ছে ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী নানা প্ল্যাকার্ডও। ভোট ঘোষণার পরেই কেন ভারত বিদ্বেষী মনোভাব ফের মাথাচাড়া দিল? বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি জারি করল রাষ্ট্রপুঞ্জ। রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, হাদির হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশকে সংযত হতে হবে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সে দেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। আপাতত ভোটের কথা মাথায় রেখেই সংযম দরকার বলে মনে করছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। কিন্তু বাংলাদেশের এই মহান বিপল্বীরা যাদের রোষের হাত থেকে শিল্প সংস্কৃতি সংবাদ মাধ্যম তারা শান্ত হতে সংযত হতে জানে? অন্যদিকে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ও ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী ওরফে এ বি জুবায় তো রীতিমতো ভারতকে হুশিয়ারি দিচ্ছে। আওয়ামী লিগ এই মুহূর্তে অনেকটাই শোক্তি হারিয়েছে অন্তত ইউনুস তো তাই মনে করেন তাহলে সেই নীষিদ্ধ দলের এক নেতার এত ক্ষমতা কি করে হল হাদির মত এক শোক্তিশালী ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করার? তাহলে কি ইউনুস আপনিও জানতেন নির্বাচন হলে তা খুব একটা আপনাকে লাভ দেবে না? তাই কি হাদিকে শীকার হতে হল আপনারই ঘৃণ্য চক্রান্তের? যার দ্বারা নতুন করে খেপিয়ে দেওয়া গেল বাংলাদেশকে আবার ওঠানো গেল ভারত বিদ্বেষী রব? এতে আদতে লাভটা কার হল? মুখে বড় বড় কথা বলে দেওয়া তো সহজ কিন্তু যে হিন্দু যুবক যে সাংবাদিককে এভাবে হত্যা করা হল জবাব তো সেতা নিয়েও চাওয়া হতে পারে? উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন মহম্মদ ইউনুস?