ডিভিসি ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর পরিসংখ্যান খারিজ কেন্দ্রের

ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: একদিকে পুজোর আমেজে মেতেছে গোটা বাংলার মানুষ আর ঠিক সেই সময়ে রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে জল ছাড়ছে ডিভিসি। ডিভিসির বিরুদ্ধে রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ার অভিযোগ বারবার তুলেছে সরকার। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ইচ্ছা করে বাংলাকে বিসর্জন দেওয়ার জন্য জল ছাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাতিল।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আবারও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পোস্ট করে জানিয়েছেন, ডিভিসি শুক্রবার সন্ধ্যে পর্যন্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে পাঞ্চেত ও মাইথন দুটি জলাধার থেকে। কিন্তু কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাতিল জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। যে জল ছাড়ার পরিমাণ পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলছে বাস্তবে তার অর্ধেক জল ছাড়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। ডিভিসির থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী দাবি করেছেন , মাইথন থেকে ৪২,৫০০ কিউসেক ও পাঞ্চেত থেকে ২৭,৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। অর্থাৎ, পাঞ্চেত ও মাইথন থকে মোট জল ছাড়ার পরিমাণ ৭০,০০০ কিউসেক। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার যে অভিযোগ তুলেছেন তাকে সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হান্ডেলে জানিয়েছিলেন, একদিকে বিজয়া দশমীর আনন্দে মেতেছেন গোটা রাজ্যবাসী। সেই আনন্দ, উল্লাসের মধ্যে মানুষকে শান্তিতে উৎসব শেষ করতে না দিয়ে ডিভিসি ইচ্ছা করে জল ছেড়েছে। উৎসবের মরসুমে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটা কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। এটি ডিভিসির তৈরি করা দুর্যোগ। এইভাবে বাংলার সাধারণ মানুষকে বিপদের মধ্যে ফেলা যাবে না। আমি বরদাস্ত করব না। এইভাবে কেউ বাংলাকে বিসর্জন দিতে পারবে না। এই নোংরা ষড়যন্ত্র আমরা শক্তহাতে প্রতিহত করব বলেও এক্স হ্যান্ডলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইতিমধ্যেই দামোদর, ইছামতী সহ বিভিন্ন নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নীচু জায়গাগুলি থেকে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।