নিজস্ব প্রতিনিধি: অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল রাজ্য সরকার। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ— বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ— বঞ্চিত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের পক্ষেই রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়েই ‘বাধাপ্রাপ্ত’ হয়ে রাজ্য এবার বিশেষ অনুমতি পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন মমতা পারিহার সহ ৪১৫ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে সুপারভাইজার পদে সরাসরি নিয়োগ করছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে পদোন্নতির সুযোগ না পেয়ে তারা কার্যত বঞ্চিত। অথচ রাজ্যের নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
২০১৫ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশিকা জারি করে জানায়, সুপারভাইজার পদে নিয়োগের ৫০% শূন্যপদে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মধ্যে থেকেই পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। অভিযোগ ২০১৯ সালে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে ৩৪৫৮টি শূন্যপদের মধ্যে মাত্র ৪২২টি পদ অঙ্গনওয়াড়িদের জন্য রাখে। বাকি ৩০৩৬টি পদে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
এই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হলে বিচারপতি লপিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রায়ে জানান, কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে ৫০% পদে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের থেকেই পদোন্নতির ভিত্তিতে নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু হাইকোর্টের সেই নির্দেশ অমান্য করে রাজ্য সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে থাকে বলেই অভিযোগ।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদেরপক্ষের আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরীর দাবি, “সর্বশেষ সুপারভাইজার নিয়োগ হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। তারপর ২০১৫ সালে কেন্দ্রিয় সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে জানায় সুপারভাইজর পদে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীথেকে ৫০% এবং বাইরে থেকে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়োগ করতে পারবে রাজ্যমোট শূন্যপদে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু হওয়ার পর দেখা যায় কেন্দ্রীয় নির্দেশ অগ্রাহ্য করে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী থেকে পঁচিশ শতাংশ বাইরে থেকে ৭৫ শতাংশ কর্মী নিয়োগ করছে রাজ্য সরকার। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের পদোন্নতির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”
পাশাপাশি আইনজীবীর প্রশ্ন, “যাঁরা বছরের পর বছর রাজ্যের প্রকল্পে যুক্ত, কাজের সময়ে সরকারি কর্মীর মতই ব্যবহার করা হয়, অথচ পদোন্নতির সময় তাঁদের অবহেলা কেন?”যেখানে কেন্দ্র ৫০%পদে নিয়োগে বাধ্যতামূলক করেছে, তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নিয়োগ করতে চাইছে না। যাতে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সুপারি সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি না হয় সেই শূন্য পদে রাজ্য সরকার চাইছে বাইরে থেকে কর্মী নিয়োগ করতে বলে অভিযোগ।১১৫২ মেধা জন তালিকাভুক্ত হলেও তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে এই বিষয়টি সুপ্রীম কোর্টের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানান আইনজীবী।
ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রাখলেও রাজ্য সেই নির্দেশ মানেনি বলেই অভিযোগ। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের এই চ্যালেঞ্জের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়