ব্রাত্যর ‘শিকড়’-এ জুড়ল দুই বাংলা

সে কী কথা ? এক মাথা চুল নিয়ে কুণাল ঘোষ হঠাৎ নিজেকে গোপাল ঘোষ কেন বলছেন ?

সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: “নমস্কার আমি গোপাল ঘোষ।“

একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর, এমনই মনে করছিলেন নেটিজেনরা। কিছুক্ষণ পর তাল কাটল। সেই ভিডিওতে কুণাল বলছেন- “নমস্কার আমি গোপাল ঘোষ। সাজেরহাটের এই এলাকায় আমাকে সবাই মেজদা বলে ডাকে। এই চারপাশে যেসব গাছপালা দেখতে পাচ্ছেন, এর পাতাগুলো আমার অনুমতি ছাড়া নড়ে না। আমি আবার পরিচালক ব্রাত্য বসুর অনুমতি ছাড়া নড়ছি না। কারণ আমি এসেছি ব্রাত্য বসু পরিচালিত নতুন সিনেমা শেকড়ের শ্যুটিংয়ে। বোলপুরের কাছে এই গ্রামের নাম বাঁকপাড়ায় চলছে শ্যুটিং। আমার ভূমিকা একজন রাজনৈতিক নেতা গোপাল ঘোষ, সাজিরহাটের অল ইন্ডিয়া পিপলস পার্টির নেতা। “

কুণাল ঘোষ তথা গোপাল ঘোষ আরও জানিয়েছেন, “গল্পটা জব্বর বানিয়েছেন ব্রাত্য। বিভূতিবাবুর দুটি গল্পকে মিশিয়ে একটা সমকালীন স্কেচ তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে চঞ্চল চৌধুরী, সোমা বিশ্বাস, লোকনাথবাবু, অম্বরীশ, নারায়ণ গোস্বামী সহ আরও বিশিষ্ট অভিনেতারা রয়েছেন। টানটান চিত্রনাট্য। বীরভূমে রাজনেতা, সাংবাদিক হিসেবে আগে এলেও এই প্রথম অভিনেতা হিসেবে এলাম। নামটা মনে রাখবেন গোপাল ঘোষ।“

ওপার বাংলার অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে কুণাল ঘোষকেও অভিনয় করতে দেখা যাবে ব্রাত্য বসুর এই সিনেমায়। শিক্ষামন্ত্রী তথা পরিচালক ব্রাত্য বসু কথা সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি গল্পকে নিয়ে তার চলচ্চিত্র ফুটিয়ে তুলছেন।

চিরকালই ডাকাবুকো রাজনীতিক হিসেবেই পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। প্রায়ই বাম, বিজেপি, কংগ্রেস সহ বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষের সুরে বিঁধতে দেখা যায় তাঁকে। এবার সেই তৃণমূল নেতাকেই দেখা গেল সিনেমার শ্যুটিংয়ে।  লাভপুর, নানুর, বোলপুর বিভিন্ন জায়গায় শুটিং চলছে শেকড় চলচ্চিত্রের।

বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গদিচ্যুত হওয়া এবং সেদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে মহম্মদ ইউনুসের আসা। তারপর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে ব্যাপক বদল এসেছে। সেদেশে হিন্দু নিধন নিয়ে গর্জে উঠেছে এপাড় বাংলা। ইউনুসের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। সবক্ষেত্রেই এই সম্পর্কের অবনতির প্রভাব পড়েছে।  

ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে যতই অবনতি হোক না কেন, তারপর থেকে এই প্রথমবার দুই দেশের শিল্পীরা কাজ করছেন একটি ছবিতে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সেই চলচ্চিত্রের নাম শেকড়। সবমিলিয়ে বলা যেতেই পারে ব্রাত্যবসুর শেকড়ে জুড়ল দুই বাংলা।