চার্জশিট বনাম চার্জশিট !

তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ৩৫ পাতার চার্জশিট প্রকাশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাল্টা চার্জশিট তৃণমূলের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান এখন সরগরম চার্জশিট বনাম চার্জশিটের খেলা শুরু হল রাজ্য। শনিবার সকালে কলকাতায় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ৩৫ পাতার চার্জশিট প্রকাশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বিকেলের মধ্যেই তার জবাবে তৃণমূল কংগ্রেসও নামল পাল্টা আক্রমণে।

‘মোটা ভাই, জবাব চাই’ শিরোনামে ১৫ পাতার চার্জশিট প্রকাশ করে কার্যত শাহর তোলা প্রতিটি অভিযোগ খারিজ করে শাসকদল। তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন ব্রাত্য বসু, মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদরা। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট—এই চার্জশিট কেবল রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার।

ব্রাত্য বসুর কথায়, ‘‘এসআইআর আপনাদের চক্রান্ত। তৃণমূলের কফিনে পেরেক ঠুকতে চাইছেন, আমরা সেই পেরেক উপড়ে নেব।’’ তিনি আরও দাবি করেন, অমিত শাহ যে অভিযোগগুলি তুলেছেন, তার প্রত্যেকটিরই বিস্তারিত জবাব প্রস্তুত রয়েছে তৃণমূলের কাছে।

নারী সুরক্ষার প্রশ্নে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল নেতারা। ব্রাত্যর প্রশ্ন, ‘‘আপনাদের শাসিত রাজ্যগুলোয় নারী নিরাপত্তার কী হাল? মণিপুর নিয়ে কেন নীরব? উন্নাও, হাথরসের মতো ঘটনা ভুলে গেছেন?’’ তাঁর অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যে অপরাধীদেরই প্রশ্রয় দেওয়া হয়।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও শাহর বক্তব্যকে কড়া ভাষায় খণ্ডন করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ব্রাত্য বলেন, ‘‘বাংলার ক্ষেত্রে বারবার অনুপ্রবেশের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু দেশের অন্যত্র বড় বড় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় কারা জড়িত, তা প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না কেন?’’ একই সঙ্গে ‘ডেমোগ্রাফি বদল’ প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন তিনি।

এসআইআর নিয়েও সরব হয় শাসকদল। ব্রাত্য বসুর দাবি, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টাই চলছে। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হবে না।’’

তৃণমূলের মতে, বিজেপির ৩৫ পাতার চার্জশিটের জবাবে তাদের ১৫ পাতার নথিই যথেষ্ট। পালটা অভিযোগে শাসকদল বোঝাতে চাইছে, কেন্দ্রের শাসক দল যে ইস্যুগুলি তুলে ধরছে, তার বাস্তব ভিত্তি নেই।

সব মিলিয়ে ভোটের আগে বাংলার রাজনীতি এখন তীব্র বাকযুদ্ধে উত্তপ্ত। একদিকে বিজেপির অভিযোগের ঝাঁঝ, অন্যদিকে তৃণমূলের পালটা আক্রমণ—এই সংঘাতই যে আগামী নির্বাচনের আবহকে আরও তীব্র করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।