মালদা জেলার চিতরপুর এবং আট মাইল হাটে স্বল্প মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে পুজোর সামগ্রী। খুশি ক্রেতারা।

বিশ্বজিৎ মন্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা : দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো শেষ৷ শেষ কালীপুজোও৷ এরই মধ্যে এগিয়ে এসেছে ছটপুজো৷ মূলত ভিনরাজ্যের মানুষ এই পুজো করে থাকলেও বেশ কিছু বছর ধরে বাঙালিও ছটপুজোয় মেতে উঠেছে৷ এই পুজোর মূল উপকরণের মধ্যে রয়েছে বাঁশের তৈরি ডালি ও কুলো৷ রবিবারই নতুন ডালিতে বিভিন্ন ফল সাজিয়ে, নতুন কুলোয় প্রদীপ নিয়ে নদীতে নামবেন ছট ব্রতীরা৷ তাই এই মুহূর্তে যেমন ব্যস্ত প্রস্তুতকারকরা, তেমনই ব্যস্ততা রয়েছে বিক্রেতাদেরও৷ শুক্রবার পুরাতন মালদা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চিতরপুর এবং আট মাইল হাটে সেই ছবি লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ চিতরপুরের এক বাঁশশিল্পী বিনোদ মাহাতো জানাচ্ছেন, ‘এখন আমরা ছটপুজোর ডালা তৈরি করছি৷ আমরা শুধু ডালা তৈরি করি৷ কুলো বানাই না৷ যারা আমাদের কাছে আগে বরাত দিয়ে যায়, সেভাবেই আমাদের কাজ করতে হয়৷ এখানে আমার মতো অনেকেই ডালা বানায়৷ প্রত্যেকে গড়ে ২৫-৩০টি ডালার বরাত পাই৷ প্রতিটি ডালি ২০০ টাকা দরে এবার বিক্রি হয়েছে৷ তবে পুজো বলে আমাদের ডালির দাম বাড়ে না, সারা বছর একই দাম থাকে৷ মধ্যবিত্তের আয়ত্তের মধ্যে রাখতেই আমরা দাম বাড়াই না। সবাই যেন উৎসবে মেতে উঠতে পারেন সেই জন্যই এই উদ্যোগ।’ আট মাইল হাটে ছট পুজোর বাঁশের সামগ্রী বিক্রি করছিলেন নাথুলি চৌধুরী৷ তিনি জানালেন, ‘বাজার এখন ভালো উঠেছে৷ বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে৷ প্রতি বছরই ছট পুজোর সময় ভালো ব্যবসা হয়৷ এবার ব্যবসা একটু বেশি ভালো৷ প্রতিটি কুলো ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছি৷ ডালার দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা৷ জিনিস অনুযায়ী আমরা দাম নির্ধারণ করি৷ পুজোর আগে আজই শেষ হাট৷ ফলে আজ ব্যবসা বেশ ভালো জমেছে৷ আমরা নিজে এসব জিনিস বানাই না৷ বাইরে থেকে কিনে এনে বিক্রি করি৷ আমাদের ব্যবসা বারো মাসই চলে৷’

আরেকজন মহিলা বিক্রেতার কথায়, ‘কেনাবেচা ভালোই হচ্ছে৷ আজ আরও ভালো হবে৷ আমার দোকানে কুলোর দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা৷ ডালি বিক্রি করছি ২৫০ টাকায়৷ বাইরে থেকে মাল কিনে এনে ব্যবসা করি৷ এই হাটে আমার স্থায়ী ব্যবসা৷’উৎসবের আর বেশি দিন বাকি নেই। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে প্রস্তুতি একেবারে তুঙ্গে। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসে এই বাজার থেকে স্বল্প মূল্যে জিনিস সংগ্রহ করেন পুজোর জন্য। নিজের আয়ত্তের মধ্যে জিনিস পেয়ে খুশি ক্রেতারাও।