
সূচনা পল্যে, নিজস্ব সংবাদদাতা: ডিজিটাল যুগে প্রতিদিনই নতুন নতুন প্রতারণা। কখনও ব্যাংক KYC, কখনও লটারি, কখনও আবার সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। কিন্তু দিল্লির এক যুবক সেটাই পাল্টে দিলেন উল্টো দিকে। স্ক্যামার যেখানে টাকা তুলতে মরিয়া- সেখানেই যুবক ব্যবহার করলেন ChatGPT-কে, তৈরি করলেন নকল পেমেন্ট লিংক, আর সেই লিংকে ক্লিক করতেই ধরা পড়ল আসল চেহারা- স্ক্যামারের GPS লোকেশন, IP অ্যাড্রেস, এমনকি তার নিজের মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরার ছবি!আর তারপর শুরু হলো-ক্ষমা ভিক্ষার নাটক।
দিল্লির বাসিন্দা ওই যুবকের কাছে হঠাৎই এক ম্যাসেজ আসে ফেসবুকে। নামটা দেখে চমকে ওঠেন তিনি। কলেজের এক সিনিয়ার, যিনি এখন IAS অফিসার তিনি তাকে ম্যাসেজ করেছেন। মেসেজে বলা- “একজন CRPF অফিসার বদলি হয়ে যাচ্ছে, তাই কম দামে বাড়ির জিনিস বিক্রি করছেন। চাইলে আপনিও নিতে পারেন।”

দেখতে সব ঠিক- উচ্চমানের অ্যাপ্লায়েন্স, দাম অস্বাভাবিক কম কিন্তু এখানেই সন্দেহ হয় যুবকের। কারণ- তার সিনিয়ার তো তার সরাসরি ফোন নম্বরই জানেন। তাহলে ফেসবুকে মেসেজ কেন করছেন? সে কারণে তিনি আসল সিনিয়ারকে ফোন করেন। উত্তরে তিনি বলেন-“না, আমি তো কাউকে কিছু বিক্রি করছি না।” এতেই পরিষ্কার- এটা নিছক Army-Transfer Scam, যেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ বা সরকারি চাকরির ভুয়ো পরিচয় দিয়ে টাকা তোলা হয়। যুবক সিদ্ধান্ত নেন- এবার তিনি স্ক্যামারের খেলা, স্ক্যামারকেই দেখাবেন। স্ক্যামার এরপর অন্য একটা নম্বর থেকে যোগাযোগ করে। হোয়াটসঅ্যাপ DP-তে সেনা পোশাক, নামের পাশে Army ইউনিটের ইমোজি-সব মিলিয়ে একদম জাল সাজসজ্জা। তারপর আসে আসল ফাঁদ-একটি QR কোড, আর তাড়া দেওয়া। “এখনই টাকা পাঠান। অন্য ক্রেতা অপেক্ষা করছে!” কিন্তু দিল্লির যুবক অভিনয় করে বলেন, “QR স্ক্যান হচ্ছে না, সার্ভার এরর দেখাচ্ছে, একটু সময় দিন।” এই সময়েই তিনি ChatGPT-কে ব্যবহার করেন মাত্র কয়েক মিনিটে AI-কে দিয়ে বানিয়ে ফেলেন একটি Fake Payment Upload Page। যার আসল কাজ স্ক্যামারের GPS Location ধরবে, তার ফোনের IP Address ট্র্যাক করবে আর ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলবে।
ওয়েবপেজ হোস্ট করে লিংক পাঠিয়ে দেন স্ক্যামারকে- “ভাই, QR টা এখানে আপলোড করুন। তাতে টাকা ট্রান্সফার দ্রুত হবে।” লোভে পড়ে স্ক্যামার লিংকে ক্লিক করেই ফেলল। লিংকে ক্লিক হতেই সব তথ্য এসে যায়- স্ক্যামারের আসল GPS লোকেশন- কোন শহর, কোন রাস্তা। তার IP address- কোন সার্ভিস প্রোভাইডার এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- তার নিজের মুখের স্পষ্ট ছবি।
যুবক এবার স্ক্যামারকে পাঠিয়ে দেন- ঠিক সেই ছবি, সেই লোকেশন। আর সঙ্গে লেখেন- “আরেকবার স্ক্যাম করলে পুলিশে দেব।”
এই পর্যন্ত শুনে স্ক্যামার ভেঙে পড়ে। হোয়াটসঅ্যাপে একের পর এক ভয়েস নোট- “ভাই ভুল হয়ে গেছে। আর করব না। দয়া করে পুলিশে দেবেন না, ক্ষমা করে দিন” একেবারে বাকরুদ্ধ- এক প্রতারক নিজেই ভিক্ষা চাইছে ক্ষমার।
এই পুরো ঘটনাটা যুবক Reddit–এ শেয়ার করেন। টাইটেল দেন-“Used ChatGPT to locate a scammer and made him beg me.”
কেউ কেউ লিখেছেন- ChatGPT শুধু কোড লেখেনি সাহসও দিয়েছে! অনেকেই আবার প্রশ্ন তুলেছেন- AI কি এতটাই শক্তিশালী যে সহজেই লোকেশন ও ক্যামেরায় অ্যাক্সেস পাওয়া যায়? বেশিরভাগই মনে করেন- এটার জন্য দরকার টেকনিক্যাল স্কিলও। ChatGPT শুধু কোড করেছে, কিন্তু পুরো কাজটা সম্ভব হয়েছে যুবকের IT জ্ঞান ও সেটআপের কারণেই।
ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিদিন বাড়ছে। এই রাজ্যে KYC জালিয়াতি, QR Code Scam, Bank Account Freeze Scam বেড়ে চলেছে। কিন্তু এই ঘটনায় দেখা গেল- প্রতারকরা যেমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে- ঠিক তেমনই ভুক্তভোগীরাও AI–কে অস্ত্র বানাতে পারেন। তবে সাবধান! কোনও Tracking Link নিজে তৈরি করা বা অন্যকে পাঠানো আইনি দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সবচেয়ে নিরাপদ পথ- প্রতারকের তথ্য পুলিশ বা সাইবার সেলে দেওয়া।