সন্ত্রাসবাদীরা প্রস্তুত করে ফেলেছিল বিষ। জালে সেই অভিযুক্ত চিকিৎসক । রাইসিন নামের একটি রাসায়নিক দিয়ে দেশজুড়ে কেমিক্যাল অ্যাটাকের পরিকল্পনা ছিল আইসিস মডিউলের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: আইসিস মডিউল নিয়ে বড় তথ্য ফাঁস করেছে গুজরাত এটিএস। এই মডিউল রাইসিন নামের একটি রাসায়নিক দিয়ে সারা দেশে রাসায়নিক হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। মডিউলের মাস্টারমাইড আহমেদ সৈয়দ মইনুদ্দিন ৭ নভেম্বর সন্ধের দিকে আহমেদাবাদের হোটেল গ্র্যান্ড অ্যাম্বিয়েন্সের বাইরে ঘুরে দেখেছে বলে খবর।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সন্ত্রাসবাদী আহমেদাবাদে অস্ত্র কিনতে গিয়েছিল। এই মডিউলের আরেকজন সন্ত্রাসবাদী সদস্য উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরের বাসিন্দা মহম্মদ সুহেলের কাছ থেকে আইসিসের কালো পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
চিন থেকে এমবিবিএস করেছে সৈয়দ মইনুদ্দিন
চিন থেকে এমবিবিএস করেছে ডক্টর আহমেদ সৈয়দ মইনুদ্দিনেরও সন্ত্রাসবাদী প্রোফাইল ইতিমধ্যে হাতে পেয়ে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই চিকিৎসক হায়দরাবাদের বাসিন্দা। হ্যান্ডলারের সঙ্গে কথাবার্তাও ডিজিটালভাবে গোপনীয় রাখার যথাসম্ভব চেষ্টা করেছিল। তবে শেষরক্ষা হল না। ডক্টর আহমেদ সৈয়দ মইনুদ্দিনের সঙ্গে হ্যান্ডলারের মধ্যে যেসব কথোপকথন বা আলোচনা হয়েছিল, সেই তথ্যও হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের।
বায়োলজিক্যাল ওয়েপন বা জৈব অস্ত্র বানানোর প্রস্তুতি চলছিল
গুজরাত এটিএস গত কয়েকদিনে ৩ সন্ত্রাসবাদীকে গ্রেফতার করেছে। এই মামলায় হায়দরাবাদের এক চিকিৎসককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এটিএস যখন হায়দরাবাদে ডক্টর আহমেদ সৈয়দের বাড়িতে পৌঁছয়। সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ সন্ত্রাসবাদী সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। ডাক্তার আহমেদের ভাই উমর জানিয়েছে, বুধবার সকালে ১০জন এসেছিল। তারা ৩ কেজি রিসিনাস, ৫ লিটার অ্যাসিটোন, কোল্ড প্রেস অয়েল এক্সট্র্যাকশনের মেশিন এবং অ্যাসিটোনের ডেলিভারির একটি রশিদ নিয়ে গিয়েছে।
উমর জানাচ্ছে, তার ভাই আহমেদ চিন থেকে মেডিক্যাল পড়াশোনা করেছে। তাকে কেউ একজন একটি প্রোজেক্ট দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী কাজ করছিল সে।
এখানেই উল্লেখযোগ্য রিসিনাস খুবই বিষাক্ত। উমর জানাচ্ছে, তার ভাই বোধহয় রিসিনের এই বিষাক্ত হওয়ার ব্যাপারটা জানত না। রিসিন খুবই বিপজ্জনক এবং বিষাক্ত প্রাকৃতিক প্রোটিন। রিসিনাস থেকে তেল বের করার পর রিসিন বেরোয়। যা খুবই শক্তিশালী বিষ। যা বায়োলজিক্যাল ওয়েপন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। রিসিন যদি মুখের মাধ্যমে কিংবা ইঞ্জেকশন বা নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে তাহলে প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।