দার্জিলিং যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রিচমন্ড হিলে দুই জেলার সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নিয়ে রিপোর্ট দেবে জিটিএ।
ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পরের দিনই উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন তিনি। তারপর আবারও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার জন্য রবিবার তড়িঘড়ি উত্তরবঙ্গ যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নাগরাকাটায় মৃতদের পরিবারের একজন করে সদস্যের হাতে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। এছাড়াও সোমবার নাগরাকাটা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্যোগে যাদের নথি নষ্ট হয়েছে তাদের ডুপ্লিকেট তৈরি করে দেওয়া হবে।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাদের মাথার ওপর ছাদ নেই তাদের বাড়ি বানিয়ে দেবে সরকার। পাশাপাশি যাদের বিভিন্ন নথি নষ্ট হয়ে গিয়েছে তার ডুপলিকেট দ্রুততার সাথে বানিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। নথি তৈরি করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়াও ভূটানকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তিনি বলেন, ভূটানের জলেই উত্তরবঙ্গে এত দুর্ঘটনা ঘটেছে। ওদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও ত্রাণশিবির পরিদর্শনের পর তিনি চলে যান কার্শিয়াংয়ে। সেখানে তিনি রাত্রিবাস করেন। মঙ্গলবার কার্শিয়াং থেকেই মিরিক যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। শেষ মুহূর্তে তিনি তাঁর এই কর্মসূচির পরিবর্তন করেন। তিনি জানান, মিরিক যাচ্ছেন না আজ। কার্শিয়াংয়ের জোড়বাংলোয় পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত থাকবেন বিডিওরা। মঙ্গলবার রাতেই দার্জিলিং যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে রিচমন্ড হিলে দুই জেলার সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকও করবেন তিনি।

একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনী চলছে সমস্ত জেলাজুড়ে। জনসংযোগে লিপ্ত হচ্ছেন তৃণমূলের নেতৃত্বরা। আগামী ১৭ তারিখ পর্যন্ত এই বিজয়া সম্মিলনী চলবে। তার মধ্যেই উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর কেন্দ্র ভবানীপুরেই আজ বিজয়া সম্মিলনী। আলিপুরের ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে এই বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বশরীরে এই অনুষ্ঠানে থাকতে পারবেন না। ভার্চুয়ালি তিনি এই সম্মিলনীতে অংশগ্রহণ করবেন। কার্শিয়াং থেকে ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জিটিএ-র কাছ থেকে রিপোর্টও চেয়েছেন তিনি। হড়পা বানে পাহাড়ের কোন কোন জায়গা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তিনি চেয়েছেন জিটিএ-র কাছ থেকে। তবে জিটিএ সূত্রে জানতে পারা যাচ্ছে, সেই রিপোর্ট ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছেন তারা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কেবল পেশ করার অপেক্ষা।